দেশে পরিবর্তনের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে সরকারে থাকার চেয়ে রাজপথে থাকলে বেশি ভূমিকা রাখা যাবে বলে মনে করছেন সদ্য পদত্যাগী তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে যেকজন শিক্ষার্থী নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকায় ছিলেন নাহিদ ছিলেন তাদের অন্যতম। পরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে উপদেষ্টা পরিষদে প্রথমে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাহিদ ইসলাম। এরপর তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। শেষ দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত একটি কমিটির দায়িত্বেও এসেছিলেন নাহিদ।
গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তির নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক হওয়ার জন্য নাহিদের ডাক পড়লে তার মন্ত্রণালয় ছঅড়ার গুঞ্জন বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই ধারনাই সত্যি হল।
পদত্যাগের বিষয়ে নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের জন্য আমার রাজপথে থাকা প্রয়োজন; ছাত্রজনতার কাতারে থাকা প্রয়োজন। আমরা যেই গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আকাঙ্খা পোষণ করি, সেই আকাঙ্খার পূরণের জন্য এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শক্তিকে সংহত করতে আমি মনে করেছি যে, সরকারের চেয়ে রাজপথে ভূমিকা বেশি হবে। বাহিরে যে সহযোদ্ধারা রয়েছে তারাও একই চিন্তা করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি আজকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।”
সরকারে থাকাকালে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত ছয়মাসে আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি কাজ করে যাওয়ার। দুটি মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অনেক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোতে আমি কিছু কাজ করেছি। ছয়মাস খুবই কম সময়, তারপরও আমি চেষ্টা করেছি। সেই কাজের ফলাফল হয়তো জনগণ পাবে। আজকে থেকে আমি সরকারের দায়িত্বে নেই।”
দুইজন ছাত্র এখনও উপদেষ্টা পরিষদে রয়ে গেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মনে করেছি আমার বাইরে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখনও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা তো বাস্তবায়িত হয়নি। বিচার এবং সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এই সরকার গঠন হয়েছিল সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে দুইজন রয়েছে। তারা মনে করেছে তাদের সরকারে থেকে জনগণকে সার্ভ করা উচিত। তারা যদি রাজনীতি করার প্রয়োজন বোধ করে তখন হয়তো সরকার ছেড়ে দেবে।”
“নতুন রাজনৈতিক শক্তি ও দল গঠন হচ্ছে আমি সেখানে অংশ নেওয়ার অভিপ্রায় আছে। জনগণের সাথে মিশে আবারও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়নে মাঠে থেকে কাজ করার লক্ষ্যে আমি পদত্যাগ করেছি,” বলেন তিনি।
দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের অনেক সীমাব্ধতা ছিল। সেই সীমাবদ্ধতা কাটানোর চেষ্টা করেছি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল। আমরা এসে পুলিশকে পেয়েছি তাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। জুলায়ের গণহত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের বিষয়টি রয়েছে। জনপ্রশাসন কমিটির একটা দায়িত্বে দুই সপ্তাহের মতো ছিলাম। এই সময়ে যারা ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডিসি ছিল এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের সরানোর দায়িত্ব নিয়েছে। আমি আশা করবো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের আকাঙ্খা, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে। এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণে সফলতা দেখাতে পারবে।”