রাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার , ৫ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “তোমরা তালা দিবা, হাতাহাতি করবা, আর আমাকে তোমাদের নির্বাচন করে দিতে হবে—এটা মামার বাড়ির আবদার ছাড়া কিছু নয়।”
গত রোববার সকাল থেকে ছাত্রদলের কর্মীরা রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে চেয়ার ভাঙচুর, টেবিল উল্টে দেওয়া ও ফটকে তালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটায়। পরে মনোনয়নপত্র তুলতে গেলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক নেতাদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরও সেখানে উপস্থিত হয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফটকের তালা ভেঙে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। পরে বিতরণের সময় এক দিন বাড়ানো হয়।
উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিশৃঙ্খলা রাকসু নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি রাকসুর নির্বাচন কমিশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশংসা করে বলেন, “ওই দিন তারা অসম্ভব সংযম দেখিয়েছেন। চাইলে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারতেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তা করেননি।”
অধ্যাপক নকীব বলেন, “যদি ছাত্রসুলভ আচরণ করতে না পারো, তবে তোমরাই রাকসুর অযোগ্য প্রমাণ হচ্ছ। অসভ্যতা ছড়ালে রাকসু অসভ্যতার শিকার হবে এবং এর দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকেই নিতে হবে।”
সেনা মোতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি চাই রাকসু নির্বাচন আমাদের সামর্থ্যের ভেতরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও সক্ষমতার মাধ্যমেই হোক। সেনাবাহিনী আনা ছাত্রসমাজের জন্য দুঃখজনক হবে। আপাতত এ নিয়ে কোনো ভাবনা নেই।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে শৃঙ্খলা রক্ষায় আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। “যারা অসভ্যতা করবে, তারাই এর দায় বহন করবে।”