প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ৪ জুলাই , ২০২৫
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নামে বরাদ্দ করা কক্ষ বাতিল করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমানের স্বাক্ষরে সংগঠনগুলোর নেতাদের কাছে কক্ষ বরাদ্দ বাতিলের চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, “ইউনির্ভাসিটি সেন্টারের যে সব কক্ষ আপনাদের সংগঠনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা বাতিল করা হলো। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে খালি করার জন্য অনুরোধ করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সংস্কৃতির গলা চেপে ধরা’র মতো শাবি প্রক্টরের এরকম সিদ্ধান্তে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা ফেসবুকে তাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রক্টরের কাণ্ডজ্ঞানহীন, অনৈতিক ও বালখিল্য সিদ্বান্ত বাতিল দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, শাবি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে ইউনিভার্সিটি সেন্টারের (ইউসি) প্রতিষ্ঠা। জুলাই-বিল্পবে দেশের পটপরিবর্তনের পর শান্ত থাকা শাবি ক্যাম্পাসকে অশান্ত করতে সুপরিকল্পিতভাবে দোসরদের এজেন্ট হিসেবে প্রক্টর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শাবি প্রক্টরকে সংকীর্ণ মানসিকতার আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ইউসি ভবন থেকে প্রক্টর অফিস সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
শাহজালাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি অন্তিক চৌধুরী ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “সাস্টের জন্মের পর থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিলে তিলে গড়ে তোলা ক্লাবগুলোগুলোকে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই তাদের ক্লাবরুম ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হইছে। লজ্জা-লজ্জা, লজ্জা।”
মাভৈ : আবৃত্তি সংসদের সভাপতি সাদিয়া আনজুম শৌমি বলেন, “আমরা সংগঠনের সূচনালগ্ন থেকে ইউসিতে একটি রুম ব্যবহার করে আসছি। বহুবছর থেকে এই কক্ষে মাভৈ : আবৃত্তি সংসদ তাদের অনেক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আমাদের এই কক্ষে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বই সম্বলিত ‘মাহিদ আল সালাম স্মৃতি লাইব্রেরি’। আমরা কি তাহলে এই লাইব্রেরি এখন বন্ধ করে দেব? প্রশাসন কি তাই চাচ্ছে?
“এই কক্ষ ত্যাগ করা মানে সংগঠনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই কক্ষ ছেড়ে দিতে বলা মানে হচ্ছে, সচেতনভাবে সংগঠনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা! এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবে সংগঠনগুলোকে বন্ধ করার পাঁয়তারা কিনা সেটা ভেবে দেখা উচিত।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮টি সংগঠন। কিন্তু আমাদের ইউসিতে গুটিকয়েক সংগঠন এসব কক্ষে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বাকি সংগঠনগুলোকে রিহার্সেল করার জন্য আমি কোনো রুম দিতে পারছি না।”
তিনি বলেন, “সংগঠনগুলোর সঙ্গে আমাদের কথা হবে। আমরা তাদের জানাইলাম। তারা আমাদের সঙ্গে বসুক, কথা হবে।”