প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
নিষিদ্ধ ছাত্ররাজনীতি চালুর চেষ্টা করার অভিযোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট আট শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে; বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও শোকজ করা হয়েছে ৫২ জনকে।
মঙ্গলবার রাতে বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ সংবাদকর্মীদের বলেন, “বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ। কিন্তু শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা গত মার্চে ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় রাজনীতি ফেরাতে বেশ সরব ছিলেন। সেসব বিষয় তদন্ত করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর এক ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে’ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গত বছরের ২৮ মার্চ গভীর রাতে ছাত্রলীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা বুয়েট ক্যাম্পাসে দলবল নিয়ে প্রবেশ করে।
ওই সময় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ফের সোচ্চার হয়ে উঠেছিল।
এর মধ্যে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ফেরানোর দাবিতে পাল্টা কর্মসূচি দেয় ছাত্রলীগ। গত ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে তারা অবিলম্বে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চালুর অনুমতি দেওয়ার দাবি জানায়।
ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তরের অধ্যাপক মাসুদ বলেন, "শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি ৪১টি মিটিং করে। এছাড়া ডিসিপ্লিনারি কমিটি আরও সাতটি বৈঠক করে।
“সেখানে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অর্ডিন্যান্স রয়েছে, সেটির ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এজন্য আট শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে চার থেকে ছয় সেমিস্টারের জন্য। তাদের সাজা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে।"
তিনি বলেন, "ছয়জনকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এই ছয়জনের বহিষ্কারাদেশ এখন স্থগিত আছে। যদি তারা ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাদের বহিষ্কার তখন থেকে কার্যকর হবে।
“এর বাইরে ৭ জনকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরো ২৭ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে।"
শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।