ইবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ১৩ জুলাই , ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের ফুটবল খেলার সময় দুই পক্ষের মারামারির সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নেওয়া ও দফায় দফায় সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার ২২ ঘন্টা পর রোববার (১৩ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান সংবাদকর্মীর কাছে ফোন ফেরত দিতে চান। তখন দেখা যায়, মোবাইলের সব তথ্য গায়েব করা হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফোন গ্রহণ করেননি।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও জাতীয় দৈনিক আমাদের বার্তার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আরিফ বিল্লাহ।
জানা যায়, গতকাল শনিবার বিকাল ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি বিভাগের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ মারামারির ভিডিও করতে গেলে তার মোবাইল কেড়ে নেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের আফসানা পারভীন তিনা। এসময় ঐ সাংবাদিকসহ আরো ২ সাংবাদিককে দফায় দফায় মারধর করে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। পরে ফোন কেড়ে নেওয়ার ২২ ঘন্টা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শাহিনুজ্জামানের কাছে ফোনটি জমা দেন অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি। তখন দেখা যায়, ফোনের সব তথ্য গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এতে ঐ সাংবাদিক ফোন গ্রহণ করেননি।
ফ্লাশ দিয়ে মোবাইলের সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উধাও করার অভিযোগ তুলে আরিফ বিল্লাহ বলেন, “আমার ফোনে গত ৫ বছরের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য ছিলো। প্রক্টর স্যারের কাছ থেকে মোবাইল নিতে গিয়ে দেখি মোবাইলের সকল তথ্য উধা করে দেওয়া হয়েছে। তাই আমি ফোন গ্রহণ করিনি। ফোনে আমার ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিভিন্ন ফুটেজ ছিলো। আমি মনে করি যারা আমার ফোন কেড়ে নিয়েছে তারা তাদের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকাতে মোবাইল ফ্লাশ/রিসেট দিয়েছে। আমি এর যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষকরা আমাদের কাছে ফোন জমা দেন। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিককে ফোন ফেরত দিতে অফিসে ডাকি। অফিসেই সে ফোন চালু করলে দেখা যায় ফোনে কোনো তথ্য ছিল না। পরবর্তীতে সে আমাদের কাছে ফোন রেখে যায়।”
গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে জড়িয়ে যায় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক আরিফের মোবাইল কেড়ে নিয়ে দফায় দফায় তিন সাংবাদিককে মারধর করেছে তারা।
এঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি করেন তারা।
এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে গণমাধ্যম রুখে দাড়াক, নির্যাতনের প্রতিবাদ হোক; সাংবাদিকের উপর হামলা মানেই গণতন্ত্রের কবর; সাংবাদিকের কন্ঠরোধ, চলবে না চলবে না; সাংবাদিকের কন্ঠরোধ মানিনা মানবো না; অপরাধ কোনটি, সাংবাদিকতা না হামলা? যতই করো হামলা, কলম থামবে না ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
চ্যানেল আই প্রতিনিধি সাদিয়া আফরিন অমিন্তা বলেন, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়, এটি মুক্ত পেশা। যদি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মার খেতে হয় সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে এর থেকে লজ্জাজনক বিষষয় আর হতে পারেনা।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাহিমা হিমা বলেন, আমাদের বিভাগের বড় ভাইকে মারা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এনটিভি অনলাইনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মায়িশা মালিহা চৌধুরী, চ্যানেল আই প্রতিনিধি সাদিয়া আফরিন অমিন্তা, দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি ফারহানা ইয়াসমিন, দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি ওয়াসিফ আল আবরার, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিনিধি মানিক হোসেন, দৈনিক মূলধারার প্রতিনিধি আবু বকর, দৈনিক দেশের ডাকের প্রতিনিধি সুবংকর রয়, রাজ টাইমসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাদ, দিক দিগন্তের প্রতিনিধি আবু সালমান।