কুবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ১২ আগস্ট , ২০২৫
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস) আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ বিষয়ক বিশেষ সাময়িকী ‘রক্তিম জুলাই’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুবিসাসের সভাপতি সাঈদ হাসান। দপ্তর সম্পাদক চৌধুরী মাসাবিহর পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের কুবি প্রতিনিধি মানসুর আলম অন্তর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোলায়মান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুখ ওয়াসিফ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আহত সাংবাদিক মো. শাহিন আলম বলেন, “প্রথমেই শ্রদ্ধা জানাই জুলাই বিপ্লবে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের, বিশেষ করে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে। আমি এখানে দাঁড়িয়েছি একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে। ১১ জুলাই আমরা দেখেছি পুলিশ কিভাবে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে। ১৮ জুলাইও একই ঘটনা ঘটে। আহতদের এম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পুলিশ তা আটকে দেয় এবং প্রশ্ন করলে আমাদের ওপরও হামলা চালায়। ফ্যাসিস্ট সরকার মিডিয়াকর্মীদের দমন করেও থামাতে পারেনি। নতুন স্বাধীনতার এক বছর পরও সাংবাদিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারছে না।”
প্রধান আলোচক ফারুখ ওয়াসিফ বলেন, “বাংলাদেশের ছাত্রজনতা ও সাংবাদিকরা জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বড় বাধার মুখে পড়েছিলেন। শহীদদের শেষ নিশ্বাসের ফসলই আমাদের স্বাধীনতা। তবে জুলাই আন্দোলনের পর অর্থাভাবের কারণে অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে ওঠেনি, এতে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্ররা যেভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, আশা করি কুবিসাসও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করবে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা। মনে রাখবেন, ‘জুলাই ২৪’ হঠাৎ আসেনি—ন্যায্য দাবির পক্ষে জাতি সবসময় ঐক্যবদ্ধ।”
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “মূলধারার সাংবাদিকরা ব্যর্থ হলেও ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে ক্যাম্পাসগুলো দমিয়ে রাখা হয়েছিল। সাধারণ ছাত্রদের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরছে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরাই।”
সভাপতির বক্তব্যে সাঈদ হাসান বলেন, “কুমিল্লার আন্দোলনে স্কুলকলেজ শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল অসাধারণ। আর আন্দোলনের বার্তা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে কুবিসাস। সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছবি, ভিডিও ও লাইভ প্রচার করেছে।” তিনি আহত শিক্ষার্থী, শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তনের দাবি এবং নারী শিক্ষার্থীদের অবদানও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সাময়িকী ‘রক্তিম জুলাই’-এ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কুমিল্লায় সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের ঘটনাবলি আহতদের ও সাংবাদিকদের দৃষ্টিতে তুলে ধরা হয়েছে।