প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ২৮ অক্টোবর , ২০২৫
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ২২টি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (দলগুলোর আপত্তি)সহ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ সুপারিশের ভিত্তিতেই জারি হবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ ২০২৫’, যার নির্বাহী স্বাক্ষর করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আদেশটির সাংবিধানিক ভিত্তি হবে ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান’।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ঐকমত্য কমিশনের শেষ বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কমিশনের সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, “বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন হবে। সরকারপ্রধান এতে স্বাক্ষর করবেন, আর বাস্তবায়নের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সরকার নির্ধারণ করবে।”
সূত্র জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তিন ধাপের প্রস্তাব রয়েছে—নির্বাহী আদেশ, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও সাংবিধানিক সংশোধন। ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশ্লিষ্ট। সনদের বড় অংশ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন পাবে। ভোটারদের প্রশ্ন থাকবে—‘আপনি কি জুলাই আদেশ সমর্থন করেন?’—‘হ্যাঁ’ বা ‘না’। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে পুরো সনদ, আপত্তিসহ, কার্যকর হবে।
গণভোট শেষে নির্বাচিত সংসদকে ৯ মাস (২৭০ দিন) সময় দেওয়া হবে সনদে উল্লিখিত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য। এরপর পরবর্তী ৪ বছর ৩ মাস সংসদ আইনসভা হিসেবে কাজ করবে। গণভোট জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে বা আগে হবে কিনা, তা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন হবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’, যা গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংশোধনের দায়িত্ব নেবে। কমিশনের মতে, জুলাই আদেশ কার্যকর হলে তা হবে সংবিধানের সমতুল্য দলিল।
এদিকে, সনদে স্বাক্ষর করেছে ইতোমধ্যে ২৫টি রাজনৈতিক দল—বিএনপি, জামায়াত, গণফোরামসহ। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনো সই করেনি। দলটি বলছে, আদেশের লিখিত কপি ও গণভোট প্রশ্ন জনগণের সামনে প্রকাশ না করা পর্যন্ত তারা সই করবে না।
গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদও রয়েছে—বিএনপি চায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হোক, আর জামায়াত ও এনসিপি চায় আগে গণভোট, পরে নির্বাচন।
বিএনপি অভিযোগ করছে, বর্তমান সরকারের “বিপ্লবী ক্ষমতা” নেই বলে সংবিধান সমতুল্য আদেশ জারির আইনগত ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ। দলটির মতে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই গণভোট হতে পারে।
অন্যদিকে, ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের ওপর কোনো চাপ ছিল না, আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছি। রাজনৈতিক দলগুলোই সনদ প্রণয়নের মূল অংশীদার, তাই বাস্তবায়নে অনীহা দেখাবে না কেউ।”
ড. ইউনূস বৈঠকে বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের সব নথি, অডিও–ভিডিও ও চিঠিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। এগুলো জাতির ইতিহাসের চিরজীবন্ত দলিল হয়ে থাকবে।”
কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। এরপরই বিশেষ আদেশ ও গণভোটের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।