প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ২২ এপ্রিল , ২০২৫
নতুন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) অনুমোদনের সময় চার ভাগের এক ভাগ কমিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্প অনুমোদনে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের সময়ও কমিয়ে আনা হয়েছে।
এনজিও–বিষয়ক ব্যুরোর নতুন একটি পরিপত্রে বলা হয়েছে, নতুন এনজিও অনুমোদনে এখন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে ৪৫ দিনের মধ্যে নিজেদের মতামত দিতে হবে। না দিলে এ দুটি বিভাগের কোনো আপত্তি নেই বলে ধরে নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২১ সালের জারি করা পরিপত্রে নতুন এনজিও অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিজেদের মতামত দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়, এনজিওর প্রস্তাবিত নির্বাহী কমিটির সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয় খোঁজা যাবে না। দেখতে হবে, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না।
এনজিও–বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এনজিওর প্রস্তাব এত দিন তদন্ত করত পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।
নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, এখন থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে এনজিওর প্রস্তাব তদন্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে হয়রানি কমে আসবে বলে মনে করছেন এনজিও–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে কী উল্লেখ করবে, সেটিও নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেবে—এক. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা; দুই, সামাজিক নিরাপত্তা; তিন. অন্যান্য বিষয়, যার মধ্যে থাকবে আয়কর সনদ ও বেতন–ভাতা। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে ধরে নেওয়া হবে এ বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো প্রকল্প প্রস্তাব এনজিও ব্যুরোতে জমা হওয়ার পর থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। আগের পরিপত্রে প্রকল্প অনুমোদনে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ছিল না।
এনজিও ব্যুরোর পরিচালক (নিবন্ধন ও নিরীক্ষা) নাজমুল হোসাইন বলেন, নতুন পরিপত্র জারির ফলে এনজিওগুলোর নিবন্ধনের সময় কমে আসবে। নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ হবে। মানুষের হয়রানি কমবে।