আকাশ আল মামুন, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ১২ মার্চ , ২০২৫
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর মেসে রোজার মাসে সেহরির জন্য প্রতিবেলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা খরচ করছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু খাবারের তালিকায় যা থাকে তা ‘স্বল্পপুষ্টিকর’ এবং এতে সারাদিন রোজা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অনেক শিক্ষার্থীর অক্ষেপ।
শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষের কাছে খাবারে ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। বর্তমান পরিস্থিতিতেও কিছু কিছু হলে ৫ থেকে ১০ টাকা ভর্তুকি বাবদ খরচের তথ্যও হল কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে।
তাহলে ঘরোয়া পরিবেশে অবাণিজ্যিক এসব পরিবেশনায় ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকার খাবারেও কেন শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে না? বরাদ্দের টাকা খরচে কোথাও কোনো কারচুপি আছে কি?
সম্প্রতি খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন জানতে গিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ শুনতে পান ক্যাম্পাস মিররের প্রতিনিধি আকাশ আল মামুন।
রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই খাবার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক শিক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থী খাবারের মান ও দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও আবার কিছু শিক্ষার্থী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. শাকিল মেহরাজ ক্যাম্পাস মিররকে বলেন, হলের ডাইনিংয়ে প্রতি মিল খাবারের দাম ৯০ টাকা করা হলো, দ্বিতীয় রমজান রাতে নজরুল হলে ৯০ টাকায় সাদা ভাত, তেলাপিয়া মাছ, লাল শাক দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত দামে এই মানহীন খাবার খেয়ে আমাদের সিয়াম পালন করা খুব সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। হলে অতিরিক্ত উচ্চ মূল্যে মানহীন খাবারের মানোন্নয়নে নজর দেওয়ার জন্য হল প্রশাসনের নিকট অনুরোধ রইলো।”
বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ও প্রশাসিকভাবে প্রায় ২০ রমজান পর্যন্ত পাঠদান ও পরীক্ষা চলবে, তাই এই সময়টাতে প্রায় সব বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে।
একই হলের ১৭তম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামান সৌরভ বলেন, হলের সেহরির খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যা দামের তুলনায় গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিমধ্যে এই খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ।
“এই পরিস্থিতিতে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হলের ডাইনিংয়ে ভর্তুকির ব্যবস্থা করার দাবি জানাই, যাতে সেহরিতে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা যায়,” বলেন সৌরভ।
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. দিলোয়ার হোসেন বলেন, 'আগের তুলনায় হলের খাবারের মান কিছুটা ভালো হলেও দামটা অনেক বেশি। কোন ধরনের হালাল ভর্তুকি থাকলে ভালো হতো। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৬০-৭০% মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। তাদের কাছে একবেলা খাবারের দাম ৮০ টাকা অনেক বেশি।”
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তারতিলা হাসান বলেন, 'ফয়জুন্নেসা হলে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য আমরা হলের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর নিয়ে গিয়েছিলাম ভিসি স্যারের কাছে। যেখানে মোটামুটি হলের শতভাগ মেয়ের স্বাক্ষর ছিল। স্যার আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসের ৩ মাসের বেশি হয়ে গেছে, কিন্তু কোনো সুরাহা হয় নাই।”
এবিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুন বলেন, 'এখন হলের ফান্ড তো অনেক ক্রাইসিসে আছে। আমাদের আগে দেখতে হবে আমাদের যথেষ্ট ফান্ড আছে কিনা। সরকারি ইউনিভার্সিটি অপারেশন করতে যে পরিমান ফান্ড দেওয়া দরকার, সরকার তো সে পরিমান দেয় না। উল্টো এখান থেকে ইনকাম জেনারেট করতে বলতেছে।
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খান বলেন, “'আমাদের কোনো বাজেট নেই, হলের বাজেট তো দূরের কথা, ইউনিভার্সিটিরও নেই। তবে আমি স্যারের কাছে এপ্লাই করেছি, যদি ওখান থেকে পাই আমরা অবশ্যই দিবো। একটা এমাউন্ট আমরা দিয়েছি খাবারের মান ভালো করার জন্য। সেহেরির জন্য হয়তো ৫-১০ টাকা বেশি দেওয়া লাগতে পারে, হয়তো-বা একটা ইফতার পার্টি করবে সেখানে কিছু ভর্তুকী দিবো আমরা। আমি ছাত্রদের জন্য সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিবো, এটা তে আমার কোনো সমস্যা নেই।”
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট সুমাইয়া আফরীন সানি বলেন, “রমজান উপলক্ষে বাবুর্চিদের বলেছি যে খাবারের কোয়ালিটির দিকে যেন নজর দেওয়া হয়,তারা যেন সতর্ক থাকে। স্টুডেন্টদের দিক থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ যাতে না আসে। আর ভর্তুকির কথা কি করব বা কি বলব সেটা যখন আসবে তখন এক্সিকিউট করা হবে।”
খাবারে ভর্তুকি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করে উপাচার্য অধ্যাপক মো. হায়দার আলীর কাছে বেশ ইতিবাচক উত্তর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তিনি ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
উপাচার্য বলেন, “এ ব্যাপারে নতুন কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি এরকম কোন দাবি আসে তাহলে চিন্তা করা যাবে। হয়তো দেওয়া যেতে পারে অন্য কোনো খাত থেকে। আচ্ছা দেখি কি করা যায়।”