ইবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার , ৪ আগস্ট , ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্র সাজিদ আবদুল্লাহকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকেরা। রোববার (৩ আগস্ট) রাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেদনে স্বাক্ষরকারী এক চিকিৎসক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “সাজিদের শ্বাসরোধ করা হয়েছিল। এটি একটি হত্যাকাণ্ড।”
সাজিদ আবদুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনে পুকুর থেকে তার লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই সাজিদের পরিবার ও সহপাঠীরা অভিযোগ করে আসছিলেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ২৭ জুলাই ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন স্বাক্ষরিত হয় এবং তা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের হাতে আসে।
প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩১ জুলাই চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মৃত্যুর ধরন নিয়ে এই স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন চিকিৎসকেরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, “সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো গাফিলতি নেই। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।”
তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সাজিদের পরিবারের সদস্যরাও বারবার দাবি করে আসছেন, “সাজিদ আত্মহত্যা করেনি। ওকে হত্যা করা হয়েছে।” এবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সে দাবি সত্য প্রমাণ করল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থী ও সচেতনমহলের দাবি, এখন দ্রুত বিচার ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই একমাত্র পথ।