চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ১ জুলাই , ২০২৫
দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-চাকসু ভবনকে ভাতের হোটেল আখ্যা দিয়ে ব্যানার সাঁটিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৩০ জন) দুপুর ১২টায় সাঁটানো ব্যানারে লেখা, ‘জোবরা ভাতঘর এন্ড কমিউনিটি সেন্টার’। পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য আর এক ফুট প্রস্থের ব্যানারটির নিচে ছোট করে লেখা, ‘মুলার তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়া যায়।’
তবে অল্প কিছুক্ষণ পরই সেটি খুলে নিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ততক্ষণে অনেকেই এই ব্যানারের ছবি তুলে ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জোবরা গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। সে কারণে বিদ্রুপ করে সে গ্রামের নামটিই লেখা হয় ব্যানারে। পাশাপাশি ‘এখানে মুলার তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়া যায়’—এ কথাও লেখা ছিল ব্যানারে।
দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায়, চাকসুর মতো শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিষ্ঠান যে ভাতের হোটেলে পরিণত হয়েছে, সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে এই অভিনব প্রতিবাদে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ১৯৯০ সালের পর আর চাকসু নির্বাচন হয়নি। তিন তলার ছাত্র সংসদের কার্যালয় থাকলেও এটি এখন ক্যানটিন আর কমিউনিটি সেন্টার হিসেবেই ব্যবহার হচ্ছে। কর্মচারীদের সন্তানদের বিয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হয়েছে চাকসুতে।
গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা বারবার চাকসু নির্বাচনের দাবি জানালেও প্রশাসন গড়িমসি করেছে। এ কারণে তারা এ ভবনের নাম পাল্টে ভাতের হোটেল রেখেছেন।
জানতে চাইলে ব্যানার সাঁটানোর উদ্যোগ নেওয়া অন্যতম শিক্ষার্থী আবীর বিন জাবেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসু ভবনকে শুধু একটি ভাতের হোটেল বানিয়ে রেখেছে। এটা যে ছাত্র সংসদের কার্যালয়, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। বারবার চাকসু নির্বাচন চাওয়ার পরও প্রশাসন গড়িমসি করছে। এ কারণে তাদের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া।
প্রশাসন যদি লজ্জিত হয় তাহলে তারা দ্রুত চাকসু নির্বাচনের আয়োজন করবে বলে তিনি আশা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কোরবান আলী বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কে সাঁটিয়েছে বা কে সরিয়েছে, এ ব্যাপারে তিনি জানেন না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাবেন।