জাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ৭ আগস্ট , ২০২৫
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শনীর প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাত ১০টার দিকে বটতলা এলাকা থেকে ১০জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মশাল হাতে এই মিছিল শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি আবাসিক হলসংলগ্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি আবার বটতলায় ফিরে আসে। সেখানে ‘রাজাকার’ লেখা একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।
সমাবেশে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আ আর কে রাসেল বলেন, “যারা একদিন বাংলাদেশের মানচিত্র ও পতাকা খামচে ধরেছিল, সেই রাজাকারদের ছবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শন করে ছাত্রশিবির মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবমাননা করেছে। এটা জাতির জন্য অপমানজনক।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি, তখন আমাদের আওয়ামী লীগের দোসর বলে ট্যাগ দেওয়া হয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জাতির বাস্তব ইতিহাস—এই ইতিহাসকে ধারণ করেই রাজনীতি হতে হবে।”
ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের একাংশের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে যে কোনো অজুহাতে রাজাকারদের স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন বা গ্রহণ করার চেষ্টা হলে, স্বাধীনতাকামী ছাত্র-জনতা তা মেনে নেবে না।”
এদিকে, মশাল মিছিল চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হল—আ ফ ম কামালউদ্দিন হল, শহীদ সালাম-বরকত হল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল, ২১ নম্বর হল, শহীদ রফিক-জব্বার হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে ভিন্নমত পোষণকারী শতশত শিক্ষার্থী ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন।
ফলে ১০ জনের মশাল মিছিল, শতশত শিক্ষার্থীর ভুয়া স্লোগানে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।