জাবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ২৯ জুন , ২০২৫
কয়েক দফা পেছানোর পর ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে ৩১ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের তারিখ রেখে যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল তা স্থগিত করা হয়েছে।
২৯ জুন রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ফেইসবুক পেইজে ৩০ এপ্রিল ঘোষিত তফসিল স্থগিত করার ঘোষণা আসে।
নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্য স্বাক্ষরিত এই ঘোষণায় বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসু সভাপতি অধ্যাপক কামরুল আহসানের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের আজকের সভায় নির্বাচনী তফসিল স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়।
জাকসু ও হল সংসদগুলোর পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনের তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে বলেও ঘোষণায় বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিশন সদস্য অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার অনলাইন পোর্টাল বিডিনিউজকে বলেন, “গত ২৬ তারিখের (বৃহস্পতিবার) এক সভায় উপাচার্য ও জাকসু সভাপতি নির্বাচনের তারিখ পেছানোর আলোচনা করেন। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কাছে জাকসু সভাপতির পক্ষ থেকে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর চিঠি আসে। তাই আজকের সভায় জাকসুর তফসিল স্থগিত করা হয়। তবে যথাসময়ে আবার তফসিলের সিদ্ধান্ত আসবে।
“উপাচার্য যেহেতু জাকসুর সভাপতি, সেহেতু গঠনতন্ত্র অনুসারে তিনিই জাকসুর তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান শনিবার রাতে বলেছিলেন, “আমরা এরই মধ্যে ভেবেছিলাম, বিচারকার্য শেষ করে নির্বাচন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দিয়ে দিতে পারব। নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা তা করতে না পারলেও আমাদের আর কিছু সময়ের প্রয়োজন। আপাতত জাকসু পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে যাচ্ছে।”
এবং এটা নিয়ে অংশজনদের মধ্যে ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন উপাচার্য।
ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে জাকসুর ব্যাপারে মত-দ্বৈততা কাটলেও কেন পিছিয়ে যাচ্ছে জাকসু?
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসচিব তৌহিদ সিয়াম বলেন, “গণ অভ্যুত্থানের পর এই প্রশাসনের যত অঙ্গীকার ছিল তার কোনোটাই তারা পূরণ করতে পারেনি। তার মধ্যে অন্যতম হলো বিচার আর জাকসু। এই দুইটি প্রধান কাজ তারা কয়েক দফায় পিছিয়েছে। আমাদের আস্থা দিন দিন কমছে এই প্রশাসনের উপর। বিশেষ করে বিচার ইস্যুতে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
৩৩ বছর পর আন্দোলনের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট তারিখে আসলেই ভোট হবে কি-না তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও নানা শঙ্কা ও সন্দেহের কথা তুলেছিলেন।
এরপর সবশেষ নির্বাচন নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজনদের বৈঠক হয়। সেখানে নির্বাচন পেছানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান শনিবার রাতে বলেছিলেন, “আমরা এরই মধ্যে ভেবেছিলাম, বিচারকার্য শেষ করে নির্বাচন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দিয়ে দিতে পারব। নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা তা করতে না পারলেও আমাদের আর কিছু সময়ের প্রয়োজন। আপাতত জাকসু পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে যাচ্ছে।”
এবং এটা নিয়ে অংশজনদের মধ্যে ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন উপাচার্য।
ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে জাকসুর ব্যাপারে মত-দ্বৈততা কাটলেও কেন পিছিয়ে যাচ্ছে জাকসু?
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসচিব তৌহিদ সিয়াম বলেন, “গণ অভ্যুত্থানের পর এই প্রশাসনের যত অঙ্গীকার ছিল তার কোনোটাই তারা পূরণ করতে পারেনি। তার মধ্যে অন্যতম হলো বিচার আর জাকসু। এই দুইটি প্রধান কাজ তারা কয়েক দফায় পিছিয়েছে। আমাদের আস্থা দিন দিন কমছে এই প্রশাসনের উপর। বিশেষ করে বিচার ইস্যুতে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
“বৃহস্পতিবারের সভায় প্রশাসন শেষবারের মত বিচারকার্য শেষ করতে সুযোগ চেয়েছে আমাদের কাছে৷ আমরা দিয়েছি৷ তবে এটাই শেষ। এরপর হয় বিচার আর জাকসু দিয়ে তারা থাকবে, আর নয়ত থাকবে না৷ এরপর সব বাদ আমরা যাব এক দফায়।”
ওই সভায় অংশ নেওয়া ইসলামি ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অফিস সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের উপর মনুষ্যত্ব বিবর্জিত হামলার বিচার একটি নৈতিক দাবি, এটির বাস্তবায়ন আবশ্যক। এছাড়া হামলাকারী অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী নামধারী জুলুমবাজ ক্যাম্পাসের হলে হলে ঘাপটি মেরে আছে, সাধারণদের সঙ্গে মিশে আছে, এমনকি বিভিন্ন বিভাগীয় ছাত্রসংসদেও জায়গা করে নিচ্ছে। এদের হাতে ক্যাম্পাসের জুলাই স্পিরিটধারী শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ। তাছাড়া সেই সিম্প্যাথাইজাররা বিচারের অধীন না হলে তাদের জাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা বানচাল করার সম্ভাবনা থেকে যাবে।
“বিচারের দ্বারা আমরা ক্যাম্পাসের ভেতরের-বাইরের সব দোসরকে চিহ্নিত করতে পারব এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয়েস প্ল্যাটফর্ম জাকসু বাস্তবায়নে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারব।”