নরসিংদী প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার , ৯ এপ্রিল , ২০২৫
নরসিংদী সদর উপজেলার আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন রেজোয়ানাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার রায় স্বাক্ষরি অফিস আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন রেজোয়ানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকার ২০১৯ এর ২ এর (ক), (ঘ), (চ) ও (ছ) ধারা লঙ্ণপূর্বক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল কথাবার্তাসহ নেতিবাচক পোস্ট করায় তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিভাগীয় মামলাটির চলমান ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (১) ধারা মোতাবেক শারমিন রেজোয়ানাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
অফিস আদেশ মোতাবেক, বুধবার (৯ এপ্রিল) সহকারী শিক্ষক শারমিন রেজোয়ানার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হয়। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
এ দিকে শিক্ষিকা শারমিন রেজোয়ানার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করতে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির বাকিরা হলেন-সদস্য সচিব সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মো. রুহুল ছগীর, সদস্য সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম ও রায়পুরা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াসমিন।
তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার রায় বলেন, শিক্ষিকা শারমিন রেজোয়ানার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহিলা সম্পাদিকা ও নরসিংদী জেলা শাখার আহ্বায়ক শিউলী রানী মিত্র রোববার (৬ এপ্রিল) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দেন। শিউলী রানী মিত্র শিবপুরের ৮৮নং শেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অভিযোগটি ‘ক্যাম্পাস মিরর’-এ প্রকাশিত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লিখিত অভিযোগে শিউলী রানী মিত্র বলেন, “আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন রেজোয়ানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন যাবত নরসিংদীর বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নামে আপত্তিকর কথাবার্তা প্রচার করে আসছেন। যা খুবই লজ্জাজনক।”
তিনি বলেন, “শারমিন রেজোয়ানা একজন নারী শিক্ষক হয়ে যেভাবে অশ্লীল কথাবার্তা বলে ফেসবুকে নিজেকে উপস্থাপন করছেন, এতে আমাদের নারী শিক্ষকদের তথা নারী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করে ফেসবুকে শিক্ষিকা শারমিন রেজোয়ানার অশ্লীল কথাবার্তা ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি গোটা শিক্ষক সমাজ এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ নিয়ে জেলাব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন শিউলী রানী মিত্র।
তিনি নৈতিক স্খলনকৃত সহকারী শিক্ষক শারমিন রেজোয়ানার অশ্লীল কথাবার্তা অবিলম্বে ফেসবুক ও সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।