প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ১১ নভেম্বর , ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তার সেই স্ট্যাটাসে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নাসীরুদ্দীন লেখেন, “বন্ধু, তোমার লাল টুকটুকে স্বপ্ন আর পতাকা একটা সিটের বিনিময়ে বিক্রি করে দিও না।” এর পর থেকেই শুরু হয় আলোচনা ও জল্পনা।
মঙ্গলবার সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে পরোক্ষভাবে সেই স্ট্যাটাসের জবাব দেন। তিনি লেখেন, “একটা দলের নেতারা দিনের বেলায় হাঁকডাক ছাড়ে, বিএনপিকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে; আর রাতের বেলায় বিএনপির নেতাদের বাসায় গিয়ে ধরনা দেয়! মিডিয়ায় গলাবাজি করা আপসহীন ওই নেতা ও তাঁর ইমাম সাহেব গত পনেরো দিনে বিশটা সিটের জন্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন সাহেবের বাসায় তিনবার মিটিং করেছেন, মির্জা ফখরুলের বাসায় ধরনা দিয়েছেন একবার!”
তিনি আরও লিখেছেন, আসন ভাগাভাগির আলোচনায় “বেটার নেগোসিয়েশনের কৌশল” হিসেবেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, “পুরান রাজনৈতিক দলগুলা তরুণদের কাছে আসবে, তরুণ থাকবে ড্রাইভিং সিটে—এমন আশা ছিল। কিন্তু ইমামরাই এখন বিশটা সিটের জন্য ধরনা দেন। মিডিয়ায় গালাগালি করেন, পরে বসে থাকেন—তবু সিট মেলে না!”
কাদেরের এই পোস্টে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের কাতারে থাকা কিছু নেতার দিকেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পরে এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় দুজনের পোস্ট নিয়েই প্রতিক্রিয়া জানান।
রাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, “প্রতিপক্ষের নাম মুখে নিতে নাসীরের ভয় নেই, কিন্তু একটি সিটের জন্য কোন বন্ধু স্বপ্ন বিক্রি করল—সেটা বলেননি। তাঁর এক স্ট্যাটাসেই ঘরের বন্ধু ও বাহিরের বন্ধুরা চাপে। সবাই এখন সবার মতো করে জবাব দিচ্ছে—দর্শক হিসেবে দেখারই মজা।”
অনিক রায় সকালে কাদেরের পোস্টও শেয়ার করে লেখেন, “তাহলে কি দিনে বিপ্লব আর রাতে নেগোসিয়েশন?”
ফেসবুকে অনেকে ধারণা করছেন, নাসীরুদ্দীনের “লাল টুকটুকে স্বপ্ন” স্ট্যাটাসটি আসলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া।
গত রোববার আসিফ মাহমুদ ঢাকা–১০ আসনের ভোটার হওয়ার আবেদন করেন এবং সাংবাদিকদের জানান, তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তবে তিনি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হবেন নাকি কোনো জোটে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিএনপির সঙ্গে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে সম্ভাব্য আসন ভাগাভাগি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও দলটির নেতারা তা অস্বীকার করে আসছেন।
এ প্রসঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদপুরে এক সভায় বলেন, “চাঁদাবাজির টাকায় যাদের ঘাড় ভারী, মামলার চাপে যারা ত্রাস সৃষ্টি করেছে—তাদের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনের চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।”