জবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ৪ মে , ২০২৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশা এবং আত্মহননের মতো মর্মান্তিক ঘটনার এড়াতে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে একজন নারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক রাখার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির।
নারী শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সমস্যাগুলো নিরসনে শিক্ষার্থীরা বারবার ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে সহানুভূতিশীল পরামর্শ প্রত্যাশা করলেও, সেখানে এখনো পর্যন্ত কোনো নারী শিক্ষককে সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়নি। এ কারণে নারী শিক্ষার্থীরা অনেক সময় তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন বলে অনেক
শিক্ষার্থীর অভিমত।
জরুরি ভিত্তিতে একজন নারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক নিয়োগ দিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় একটি নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এবিষয়ে জবি শিবির সেক্রেটারি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইদানিং অনেক হতাশার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো এদের মাঝে অনেক নারী শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যার জন্য ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে গিয়ে থাকে ভালো পরামর্শ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক নেই।
“আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। নারী শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সমস্যা সমাধানে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং সেন্টার কমিটির আহ্বায়ক ড. ফারজানা আহমেদ বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে একজন নারী এবং একজন পুরুষ ছাত্র উপদেষ্টা রয়েছেন। আমরা তাদেরকে শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার কথা জানিয়েছি। এছাড়া জবি কাউন্সিলিং সেন্টারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক পোস্টার লাগানো হয়েছে ক্যাম্পাসে আশা করি শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে আরও বেশী সচেতন হবেন।
নারী ছাত্রকল্যান উপদেষ্টা নিয়োগের ব্যাপারে অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন,'নারী- পুরুষ বলে কোনো কথা না, যিনিই এখানে থাকবেন তাকে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে।শুধু নারী শিক্ষার্থীদের কথা ভাববো কিন্তু পুরুষদের কথ ভাববো না এমনটা নয়, এই জায়গাটা সকলের কল্যাণে কাজ করার একটা জায়গা।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ইতিমধ্যে ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বসার জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী সহকারী পরিচালক নিয়োগের বিষয়টা একটু সময়সাপেক্ষ। আমরা সব বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।