প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ১৯ নভেম্বর , ২০২৫
চলতি বছরের ২৭ জুলাই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো তৈরিতে পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গঠনের সময়ই অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা দিয়েছিলেন—এই সরকারের মেয়াদেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হবে। তবে সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে তিনি জানান, আগামী নির্বাচিত সরকারই পে কমিশন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তার এই বক্তব্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সচিবালয় কর্মকর্তা–কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির গণমাধ্যমে বলেন, “যেহেতু পে কমিশন এই সরকারই গঠন করেছে, তাই নতুন পে স্কেল কার্যকর করার দায়িত্বও তাদেরই নিতে হবে।” তিনি জানান, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিশনের সুপারিশ জমা না হলে চাপ বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ১৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সেখানে নেতারা ঘোষণা দেন—১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে এবং ১ জানুয়ারি থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এদিকে, বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ চলছে। বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি খায়ের আহমেদ মজুমদার জানান, ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের ছয়টি সংগঠন, ১১–২০ গ্রেড ফোরাম, কর্মচারী উন্নয়ন ফোরাম, দপ্তরি-কাম-প্রহরী সংগঠন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগসহ ১২টি সংগঠন যৌথ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সরকারি গাড়িচালকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনও তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে।
খায়ের আহমেদ মজুমদার ইঙ্গিত দেন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, “দাবি মানা না হলে কোনো কর্মসূচি থেকেই আমরা পিছপা হবো না।”
ফেডারেশনের মুখপাত্র আব্দুল মালেক বলেন, কর্মচারীরা ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পে স্কেলের গেজেট দেখতে চান। তার মন্তব্য—“আস্থার একটি জায়গা প্রয়োজন। চাইলে সরকার ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করে পরের অর্থবছরে এরিয়ার টাকা দিতে পারে। তবে নতুন পে স্কেল অবশ্যই দিতে হবে।”
১১–২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান জানান, দাবি আদায়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। সময়সীমার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ, ঢাকায় মহাসমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি—সব ধরনের কর্মসূচিই আসতে পারে।