বেরোবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার , ২৯ অক্টোবর , ২০২৫
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বহুল প্রতীক্ষিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আইন অবশেষে পাস হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি আইনটিতে অনুমোদন দেন এবং মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের ছবিসহ পোস্ট করে নিজেদের দীর্ঘদিনের দাবির সফলতা উদযাপন করেন।
প্রায় ১৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বেরোবিতে এতদিন ছাত্র সংসদ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বারবার আন্দোলন, অবস্থান কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন ও আমরণ অনশন করেছেন। তাদের মতে, এই আইনের অনুমোদন সেই দীর্ঘ আন্দোলনেরই ফলাফল।
বেরোবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আমিন আল আমিন বলেন, “ছাত্র সংসদ নীতিমালার অনুমোদন শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর। তবে এই প্রক্রিয়ায় বিতর্কিত শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না। নির্বাচন যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও অনশনকারী শিক্ষার্থী এসএম আশিকুর রহমান বলেন, “ছাত্র সংসদের আইন পাস আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। আমরা চাই, নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মুরাদ বলেন, “ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এটি নেতৃত্ব বিকাশ, মতামত প্রকাশ ও প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন তৈরি করবে। আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক।”
ছাত্র সংসদ আন্দোলনের আরেক অনশনকারী জাহিদ হাসান জয় বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক ছাত্র সংসদই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে। এই আইন সেই পথকে উন্মুক্ত করেছে।”
অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সাইফুদ্দীন খালেদ বলেন, “ছাত্র সংসদ আইন অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বেরোবিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নতুন যুগ শুরু হলো।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছেন। আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আইনটি পাস হবে, সেটি তার আগেই হয়েছে। এখন আমরা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনসহ কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।