প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ১৭ মার্চ , ২০২৫
ভারতে সফরে এসে বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ড যেসব ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দিয়েছেন, তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বলেছে, “কোনো প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্যাবার্ডের মন্তব্য করেছেন। সেগুলোতে মোটা এবং অযৌক্তিক তুলিতে একটি পুরো জাতির উপর কালি মেখে দেওয়া হয়েছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগ ও যন্ত্রণার সঙ্গে ডিএনআই তুলসি গ্যাবার্ডের করা মন্তব্যটি দেখেছি। যেখানে তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ‘নিপীড়ন ও হত্যার’ অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ করেছেন, ‘ইসলামী খেলাফতের মাধ্যমে শাসনের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের’ মধ্যে এ দেশের ‘ইসলামী সন্ত্রাসীদের হুমকির’ বিষয়টি ‘প্রোথিত’।
“এই বক্তব্যে একইসঙ্গে বিভ্রান্তিকর এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনামের জন্য ক্ষতিকর, যে জাতির ইসলাম চর্চা ঐতিহ্যগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ এবং উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আছে।”
অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, “বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। তবে আইন প্রয়োগ, সামাজিক সংস্কার এবং অন্যান্য সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলি মোকাবেলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে অংশীদারিত্বে কাজ করেছে।”
“‘ইসলামী খেলাফত’ ধারণার সাথে বাংলাদেশকে ভিত্তিহীনভাবে সংযুক্ত করা অগণিত বাংলাদেশি এবং তাদের বন্ধু এবং বিশ্বব্যাপী অংশীদারদের কঠোর পরিশ্রমকে ক্ষুণ্ন করেছে। যারা শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যে কোনো ধরনের ‘ইসলামী খেলাফতের’ সাথে দেশটিকে যুক্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করছে বাংলাদেশ।”
রাজনৈতিক নেতা এবং সুপরিচিত ব্যক্তিদের উচিত সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়া, বিশেষ করে সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে। সতর্ক থাকা উচিত, ক্ষতিকর সাধারণিকরণ যেন আরও শক্তি না পায় এবং ভীতি ও সম্ভাব্য জাতিগত উত্তেজনা যেন উস্কানি না পায়।
বিবৃতিত বলা হয়, সত্য তথ্য এবং সব জাতির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বৈশ্বিক যৌথ প্রচেষ্টায় গঠনমূলক সংলাপে জড়িত থাকার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।