জাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার , ১৬ জুলাই , ২০২৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় অন্তত ৫৭ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) এবং তদন্ত কমিটির সদস্য-সচিব লুৎফর রহমান আরিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই ২০২৪ তারিখ রাত ১১টা থেকে ১৫ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল, ১০ নম্বর ছাত্র হল (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল) এবং উপাচার্যের বাসভবন এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও আশ্রয়গ্রহণকারীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং পরে ১৭ জুলাই প্রশাসনিক ভবনের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্ত চলমান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য গ্রহণে ০১৭৩০-৯০২৩৬৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এ পর্যন্ত যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
দর্শন বিভাগের মো. আল আমিন শাহ, লায়েব আলী ও সাবরিনা সিদ্দিকী অদিতি, লোক প্রশাসন বিভাগের মাহবুবুর রহমান, মো: ইমরান হোসেন (সেতু), ইয়া রাফিউ শিকদার, মো, মাহিদুল ফয়সাল, জয় পাল ও আমিনুল ইসলাম।
পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের মো: তারেক হাসান (রিন্টু), আইআইটি বিভাগের মো: হাসনাৎ হাসান শাহরিয়া প্রাচুর্যা ও তাজিন আহমদ নিরব, আইন ও বিচার বিভাগের আহমেদ কবির হৃদয় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মো: রাশেদ খান, সায়েম হাসান সামি।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাহবুব আলম ও মো: আসাদুল হক, নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা বিভাগের আশরাফুল গোলদার, রিফাত চৌধুরী, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের মো. জাহিদ হাসান, মো. তামীম হোসেন, রতন বিশ্বাস।
ইতিহাস বিভাগের মো. মাসুম বিল্লাহ, সারোয়ার হোসেন শাকিল, মো. আতিক শাহরিয়া মুন্না, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মো. মেহেদী হাসান, চিন্ময় সরকার, মো. তৌহিদুল আলম
প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিভাগের মো. সাজ্জাদ হোসেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মো. জোবায়ের আহমেদ ।
পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের মো. এনামুল হক, তানজিলুল ইসলাম, এস এম নাহিদ হাসান সজিব, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মো. হাসান মাহমুদ ফরিদ, পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের পরশ মনি সাহা, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক।
বাংলা বিভাগের মো. সুজন মিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আবীর হাসান, মো, শামসুদ্দোজা, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের বিকাশ চন্দ্র রায়, মো. শাহেনশাহ আকাশ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের হারুন অর রশিদ।
একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মো. মামুনুর রশিদ, মো. রুহুল আমিন ভূইয়া, রসায়ন বিভাগের মো. দেলোয়ার হোসেন, সবুজ রায় ও সাদিয়া আফরিন সীমান্ত চৌধুরী,
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আর রাফি চৌধুরী, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের জোবায়ের আহমেদ, মো. সজিব হাসান, রেজওয়ান চৌধুরী রায়হান ও নাহিদ ফয়সাল।
জার্নালিজম ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের তানভীর হাসান, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের খান আসিফ রহমান, মো. ফয়জুল ইসলাম নিরব, মো. সাজ্জাদ শোয়াইব চৌধুরী এবং প্রত্নতন্ত বিভাগ বিভাগের সীমান্ত চৌধুরী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন শিগগিরই সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হবে।