প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ১৪ আগস্ট , ২০২৫
চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার সল্টগোলা এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ রানা। এর পরপরই আত্মরক্ষায় “অস্ত্র বের করা মাত্র গুলি” চালানোর মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ।
ঘটনা ঘটে সোমবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের খবর পেয়ে রানা ও আরও দুই পুলিশ সদস্য ঈশান মিস্ত্রির ঘাট এলাকায় অভিযান চালান। তল্লাশির সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রানা’র মাথায় কোপ দেয়। পরে যৌথবাহিনীর অভিযানে কিরিচ, ছুরি ও অন্যান্য অস্ত্রসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আহত এসআই রানাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; তিনি শঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন বন্দর জোনের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম।
এ ঘটনার পর ওয়্যারলেস বার্তায় সিএমপির সব সদস্যকে কমিশনার নির্দেশ দেন—২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহনের প্রাধিকার ছিল, তা পুনর্বহাল করা হলো। মোবাইল পার্টি, পেট্রোল টিম, ডিবি বা চেকপোস্টের কোনো দল আগ্নেয়াস্ত্র ও লাইভ এমুনিশন ছাড়া বের হবে না। শুধু রবার বুলেটের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে গুলি চালাতে হবে। তার ভাষায়, “ধারালো বা আগ্নেয়াস্ত্র বের করা মাত্র গুলি হবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। আত্মরক্ষার অধিকার পেনাল কোডের ৯৬ থেকে ১০৬ ধারায় স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে।”
কমিশনার আরও বলেন, রানা আক্রান্ত হওয়ার সময় সঙ্গে থাকা দুই কনস্টেবল শটগান বহন করছিলেন, কিন্তু গুলি ছোড়েননি। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, হামলাকারীরা রানার মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলতে পারত, ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন।
পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় নির্বিচারে গুলি চালানো এবং পরবর্তী সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর বাহিনীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। ফলে অনেকেই অস্ত্র বহন থেকে বিরত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার কারণে আবারও অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কিছু পুলিশ সদস্যের মতে, নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে গুলি চালানো জটিল সিদ্ধান্ত, কারণ এতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। তবুও কমিশনারের অবস্থান পরিষ্কার—“কেউ কোপ খাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না, আত্মরক্ষায় যা প্রয়োজন তাই করবে।”