প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ৮ নভেম্বর , ২০২৫
দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মিছিলে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে শাহবাগে ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচি পালনের পথে বাধা দেয় পুলিশ। এতে অন্তত ৫০ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, বিকাল ৪টার দিকে শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগের দিকে যাচ্ছিলেন। শাহবাগ থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং পরে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ছুড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বহু শিক্ষক আহত হন এবং অনেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাছুদ বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ‘কলম সমর্পণ’ করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা করেছে।” বিকাল পৌনে ৫টার দিকে শিক্ষক নেতা মুহিব উল্লাহ বলেন, “৫০ জন আহত শিক্ষককে নিয়ে আমরা ঢাকা মেডিকেলে এসেছি। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।”
তবে পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, “শিক্ষকরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আহত হওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য নেই।”
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও শিক্ষকরা তা উপেক্ষা করেছেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বাধ্য হয়েছে ব্যবস্থা নিতে।”
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো—সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। এসব দাবিতে তারা শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি শিক্ষক সংগঠন আন্দোলনে রয়েছে—‘প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’, ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন)’, ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি’ এবং ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি)’।
দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি, যেখানে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়, কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা তাতে সন্তুষ্ট নন।
এদিকে সহকারী শিক্ষকদের আরেক অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে একাদশ গ্রেডে বেতন ও একই দাবিতে আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তারা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে, দাবি আদায় না হলে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি ও ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।