প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ২ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
বছর ঘুরে আবারও বিদ্যা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর পূজাপক্ষ এসেছে; জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে সামনে রেখে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুত হয়েছে বিভিন্ন বিভাগের ৭৪টি মণ্ডপ।
সোমবার সকাল থেকে জগন্নাথ হলের মাঠে বাণী অর্চনা, আরতি ও ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিতে সরস্বতী দেবীর আরাধনা শুরু করবেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।
এবারের পূজায় দুদিনব্যাপী আয়োজনে থাকছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং রক্তদান কর্মসূচি। এছাড়াও হলের অভ্যন্তরে দর্শনার্থী শিশু-কিশোরদের জন্য বেশ কিছু রাইড, খেলনা ও খাবার দোকানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এবারও হলের খেলার মাঠের চারিপার্শ্বে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ৭৪টি মণ্ডপ প্রস্তুত করা হচ্ছে নতুন নতুন চিন্তাকে সামনে রেখে। হলের পুকুরের মাঝে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরি করছে চারুকলা অনুষদ।
শনিবার সন্ধ্যায় হল প্রশাসন এবং পূজা উদযাপন কমিটির সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোববার প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে এবারের সরস্বতী পূজার আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হবে।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার এক মহান প্রত্যয় গ্রহণ করেছি। এবারের সরস্বতী পূজা তাই এক ভিন্ন আঙ্গিকে আয়োজিত হতে চলেছে।”
তিনি জানান, জগন্নাথ হলের পক্ষ থেকে একটি, বিভাগ ও ইনস্টিটিউশনগুলোর পক্ষ থেকে ৭২টি এবং হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যুবাদের সংগঠন থেকে একটি মণ্ডপের আয়োজন করা হয়েছে। পূজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে হল প্রশাসনের মোট ১১টি উপ-কমিটি কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মানসী চৌধুরী জানান, এবারের তাদের প্রতিমাটি পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। দেবী সরস্বতীর প্রতিমাতে বাঁশ এবং শীতল পার্টির ব্যবহার রয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ভগবানের জ্ঞান ও বিদ্যার রূপ হলেন দেবী সরস্বতী। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যাদেবীর পূজা হয়। হাতে বীণা থাকে বলে সরস্বতীকে বীণাপাণিও বলা হয়।
সাদা রাজহাঁস এ দেবীর বাহন। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পুরোহিতের মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে বিদ্যাদেবীর মন্দিরে সন্তানদের প্রথম বিদ্যার পাঠের হাতেখড়ির আয়োজন করেন।