ইবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ২১ আগস্ট , ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগে এবার ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে একই ঘটনায় ১৯ শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছিল। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালিকা প্রকাশের পরপরই ‘জুলাই আন্দোলন’-এর স্বপক্ষের নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, “রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে চুনোপুঁটি ধরার চেষ্টা চলছে।” আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তি গত ১৫ বছরে গভীর শেকড় গাড়লেও মাস্টারমাইন্ডরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। শোকজ নোটিশই শেষ পদক্ষেপ হতে পারে না, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”
শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রভাবশালী অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের শোকজ করা হয়েছে তারা পরিস্থিতি নরমালাইজ করতে দৌড়ঝাঁপ করছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই অভিযোগ করেছেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। তিনি বলেন, “তালিকায় ছোটখাটো নাম এসেছে, কিন্তু প্রকৃত রাঘববোয়ালদের আড়াল করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং দোষীরা শাস্তির মুখোমুখি হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি সমর্থন করে জানান, প্রশাসন ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নেবে।
শোকজ পাওয়া ৩৩ জন শিক্ষার্থী সবাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে যুক্ত। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়, সহ-সভাপতি মুন্সী কামরুল হাসান অনিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াফত হোসেন রাকিব, আইন সম্পাদক শাকিল আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক বিজন রায়, প্রচার সম্পাদক নাবিল আহমেদ ইমনসহ আরও অনেকে। এছাড়া আইন, অর্থনীতি, সমাজকল্যাণ, লোকপ্রশাসন ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নামও তালিকায় রয়েছে।