প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ২০ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
যেই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীন বাংলার নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ প্রথম প্রহরে চব্বিশের নবজাগরণের নতুন আমেজে সেই ভাষা শহিদ স্মরণ করছে সারাবিশ্বের মানুষ।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই আয়োজনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সেখানে শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এই শহীদ মিনার থেকেই জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, আন্দোলনের চরম মুহূর্তে অগাস্টের রক্তঝরা দিনগুলো এই শহিদ মিনার থেকেই হাসিনার স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
আজ নতুন পরিবেশে, নতুন বসন্তে, আট দশক আগের বাঙালির আরেক গৌরবগাঁথা স্মরণ করা হচ্ছে দেশবিদেশে।
প্রথম প্রহরের এই ক্ষণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশাপাশি শহর আর নগর ছাপিয়ে সব শহীদ মিনারেও চলছে শ্রদ্ধা নিবেদন। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় মাইকে বাজছিল অমর সেই গান ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…’। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তখন বেদনাবিধুর এক আবহ তৈরি হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা আলাদা সময়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদসহ আপিল বিভাগ ও হাই কোর্টের বিচারপতিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারা ফুল দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা একসঙ্গে শহীদদের বেদীতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এরপর ঢাকায় দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, হাই-কমিশনাররা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে এরপর তিন বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ফুল দেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ফুল দিতে আসেন শহীদদের বেদীতে। একুশে ফেব্রুয়ারিতে এবার ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজনে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাপ। প্রতিবছর শহীদ মিনার এলাকার দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান, কবিতা ও গানের লাইন লেখা হলেও এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সেখানে জায়গা করে নিয়েছে গ্রাফিতি। কোনো কোনো দেয়ালের উপরে ব্যানার বসানো হয়েছে, যেগুলোয় বিভিন্ন গান ও কবিতার লাইন কিংবা নানা স্লোগানে একুশকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির আত্মত্যাগের এ দিন এখন আর বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বাঙালির ভাষার সংগ্রামের একুশ এখন বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রথম প্রহরেই শহীদ মিনারে শুরু হয়েছে শ্রদ্ধা জানানোর পালা, ফুলে ফুলে ভরে উঠতে শুরু করেছে স্মৃতির মিনার।