চবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ৫ জুলাই , ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থক এক শিক্ষককে পদোন্নতির আয়োজন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোগী শিক্ষার্থীরা।
সাক্ষাৎকার দিতে আসা সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীকে বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তারা।
উপাচার্য কার্যালয়ের ভেতরে শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ দিন বেলা ৩টার দিকে কুশল বরণ চক্রবর্তীর সহযোগী অধ্যাপককে পদোন্নতির সাক্ষাৎকার ছিল।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের একাংশের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পদোন্নতি বোর্ড বাতিল করে আগামী ২৪ জুলাই সিন্ডিকেট মিটিংয়ের মাধ্যমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানায় প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানান, কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতির সাক্ষাৎকারের খবরে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদকে ওই অবস্থান কর্মসূচিতে দেখা গেছে।
এ অবস্থান কর্মসূচিতে থেকেই বিকেল চারটার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। তারা কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতি বোর্ড বাতিল করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্তের দাবি করেন।
এ আন্দোলন চলাকালে কুশল বরণ চক্রবর্তী সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
কুশল বরণ চক্রবর্তীর অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে হেনস্তা করা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাড়িতে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বেলা তিনটায় তার পদোন্নতির সাক্ষাৎকার ছিল। এ কারণে তিনি আড়াইটার দিকে গিয়েছিলেন। তবে একটা দল আগে থেকে পরিকল্পনা করে তার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে। কয়েক দিন ধরেই তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল।
আন্দোলন চলাকালেই কেন সেখানে গেলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, “আমাকে নিয়ে যে-সব প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু আমাকে প্রশ্ন করা হয়নি। হেনস্তা করা হয়েছে। সহ-উপাচার্য (অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন) উলটো আমাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেন।”
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী বলেন, কুশল বরণ চক্রবর্তী ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন। অভ্যুত্থানের পর দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে—এমন অপপ্রচার বিদেশে চালিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “মব সৃষ্টি করে হেনস্তার অভিযোগ মিথ্যা। বরং কুশল বরণ চক্রবর্তী চেয়েছিলেন যে তিনি হেনস্তার শিকার হন। এ কারণেই শিক্ষার্থীরা যখন দাবিদাওয়া নিয়ে কথা বলতে গেছে, তখনই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়েছেন। কুশল বরণের আজকের এ অবস্থার জন্য তার অতীত কর্মকাণ্ড দায়ী।”