প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ১৪ মার্চ , ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতার করেছেন।
রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার
করতে এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে এদিন দুপুরে প্রধান
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজার
যান চার দিনের সফরে ঢাকায় আসা জাতিসংঘের মহাসচিব অন্তোনিও গুতেরেস।
সেখানে ইউনূস রাষ্ট্রীয় কয়েকটি
প্রকল্প পরিদর্শনের সময় গুতেরেস চলে যান উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে চলে যান। বিকালে ১৮
নম্বর ক্যাম্পে প্রায় এক লাখ মানুষের সম্মানে আয়োজিত ঐতিহাসিক ইফতারে যোগ দেন এই দুই
বিশ্বনেতা।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে পাশে রেখে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ
ইউনূস রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের আকাঙ্খা ব্যক্তি করেছে।
আসছে ঈদের পরের ঈদটি রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে উদযাপন করতে পারে সেজন্য
নিজের প্রচেষ্টার কথা রোহিঙ্গাদের জানান ইউনূস; এজন্য তাদের কাছে দোয়াও প্রার্থণা করেন।
রোহিঙ্গাদের সামনে ইউনূস কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় যা রোহিঙ্গাদের
কাছেও সহজবোধ্য।
“আল্লার হাছে দোয়া গরি, সামনর ঈদত যেন অনারা নিজর বাড়িত যাইয়েরে ঈদ গরিন ফারন,”
বলেন ইউনূস। দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবকে
বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।
চারদিনের সফরে বাংলাদেশে
আসা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে সাথে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের
একটি বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ
থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থির বসবাস।
অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা
কক্সাবাজারের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শরণার্থি শিবিরে থাকলেও তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে কয়েক
বছর ধরে দেন দরবার চলছে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী ঈদে
রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারের নিজ বাড়িতে গিয়ে ঈদ করতে পারেন সে প্রত্যাশা করেছেন প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনা
করে দ্রুত করার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কেবল মানবিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা কমানো হলে, তা নিয়ন্ত্রণহীন দুর্যোগে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
রোহিঙ্গাদের জন্য যে সম্পদ ২০২৪ সালে ছিল, তা ২০২৫ সালে এসে ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “এটা হবে নিয়ন্ত্রণহীন দুর্যোগ, যেটাকে আমরা গ্রহণ করতে পারি না। কেননা মানুষ দুর্ভোগ পোহাবে, এমনকি মারা যাবে।
“সুতরাং আমি ততক্ষণ পর্যন্ত কথা বলা থামাব না, ততক্ষণ না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটা বুঝবে যে, বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা তাদের রয়েছে।”
রাখাইনে রাজ্যে এখন পরিবেশ ‘শোচনীয়’ হওয়ার কথা তুলে ধরে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “আমাকে স্বীকার করতেই হবে, আমরা গভীর মানবিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে। আর্থিক সহায়তা কমানোর ঘোষণায় আমরা নাটকীয় ঝুঁকি মোকাবেলা করছি; রোহিঙ্গাদের খাবারের রেশন কমানোর ঝুঁকি।”