প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ১৮ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
ঢাকার সাত সরকারি কলেজের শিক্ষকরা প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এ কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ কমবে এবং শিক্ষকদের পদ-পদবি নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে। বিশেষ করে ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নারীশিক্ষা সংকটে পড়তে পারে।
শিক্ষকেরা বলছেন, সাত কলেজকে একত্রে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার পরিবর্তে আলাদা ক্যাম্পাসে একটি বিশ্ববিদ্যালয় (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো) স্থাপন করে কলেজগুলোকে অধিভুক্ত করা উচিত। প্রয়োজনে এর নাম হতে পারে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কয়েক শ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সামনে মানববন্ধন করেন এবং পরে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
উল্লেখ্য, এই সাত কলেজ আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালে এগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর গত জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবারও সাত কলেজকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত জানায়। পরে সরকার এ কলেজগুলোর জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ নেয়।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় সাত কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করে পাঠদান ও গবেষণা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদ হবে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা কলেজে; আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিস থাকবে বাঙলা কলেজে; বিজনেস স্টাডিজ থাকবে তিতুমীর কলেজে এবং ল অ্যান্ড জাস্টিস থাকবে কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে। এখানে ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে এবং ৬০ শতাংশ সশরীরে হবে, তবে পরীক্ষা হবে সরাসরি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বলেন, সমীক্ষা ছাড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হবে। প্রথম বর্ষে আসনসংখ্যা কমে যাবে, কলেজগুলোর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যাহত হবে। তাঁরা আরও জানান, শিক্ষকদের পদ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি আছে, যেমনটি আগে জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সময় হয়েছিল।
শিক্ষকেরা প্রস্তাব দেন—কলেজগুলোকে কলেজিয়েট বা অধিভুক্ত কাঠামোয় রাখা হোক, অথবা প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে পৃথক ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করে এই কলেজগুলোকে এর অধিভুক্ত করা হোক। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত যৌক্তিক করতে হবে এবং পাঠ্যসূচি যুগোপযোগী করতে হবে।
ইডেন মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে নই। তবে চাই কলেজগুলোর বর্তমান কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে অধিভুক্ত ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় করা হোক।”
মানববন্ধনে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ এবং সদস্যসচিব মো. মাসুদ রানা খানও সংহতি জানান।