প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ৪ আগস্ট , ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যৌন হয়রানির অভিযোগের জেরে বিভাগের কয়েকজন ছাত্রী পরীক্ষায় বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিভাগের একাধিক শিক্ষকের দিকে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষা পেছানোর মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের চাপে ফেলছেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ শুরু করেন। গত ২২ জুন দেওয়া অভিযোগের পর আজিজুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শিক্ষক আজিজের সহকর্মীরা এখন তাদের বিভিন্নভাবে শাস্তি দিচ্ছেন। কখনো পরীক্ষার সময় পেছানো, কখনো আইনি জটিলতা দেখিয়ে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করছেন। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষকরা পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে গড়িমসি করছেন এবং ছাত্রছাত্রীদের বলা হচ্ছে, “তোমরাই তো ঘটনা ঘটাইলা, নইলে তো এতদিনে পরীক্ষা হয়ে যেত।”
দলের বাইরে ঘটনা জানাতে না দেওয়ার জন্য শিক্ষকরা একাধিকবার মিটিং করেছেন এবং এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের দুপুরের খাবারের জন্য অর্থ প্রদান করার প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও শিক্ষার্থীরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, “আজিজ স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বিভাগের শিক্ষকরা আমাদের বিপদে ফেলছেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন—একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানেই পুরো বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এখন সেটাই প্রমাণ করছেন তার সহকর্মীরা।”
এদিকে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজমুল হুদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাদের কোর্স শেষ না হওয়ায় পরীক্ষা নিতে দেরি হচ্ছে। চেষ্টা করছি আগস্টের মধ্যেই পরীক্ষা নিতে।”
পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিলুফা আখতার বানু বলেন, “ফরম পূরণ শেষ হয়েছে, কিছু ক্লাস বাকি আছে। সেগুলো শেষ করেই দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব অজুহাত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং যৌন হয়রানির বিচার চাইবার সাহসিকতার জবাবে ‘নীরব শাস্তি’। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন তারা।