প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ৩০ মার্চ , ২০২৫
এক মাস রোজার পর আনন্দের বারতা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ ছুটি আর স্বস্তির ঈদযাত্রায় এবার আনন্দ আয়োজন চলছে অনেকটা নির্বিঘ্নে।
সোমবার ঈদ উদযাপনে প্রস্তুত হয়েছে সারাদেশ; ঈদের আগে শুক্র ও শনিবার পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি প্রায় ৪১ লাখ মানুষের গ্রামের পথ ধরার তথ্য দিয়েছে সরকার।
নির্বাহী আদেশে ৩ এপ্রিল সরকারি ছুটি ঘোষণায় এবার অন্তত ৯ দিনের ছুটি পেয়েছেন চাকরিজীবীরা। আবার ২৬ মার্চের বন্ধের পর যারা বৃহস্পতিবার ছুটি নিতে পেরেছেন তারা পেয়েছেন আরও দুদিন বেশি।
এই লম্বা ছুটি আর মহাসড়কগুলোর বাকী থাকা নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার ফলে এবার স্বস্তি আর নির্বিঘ্নে গ্রামে ফিরতে পেরেছেন ঘরমুখো মানুষ।
চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঠিক থাকায় কয়েকটি ব্যতিক্রম বাদে এবারের রোজায় অনেকটা স্বস্তি ছিল নিত্যপণ্যের বাজারে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে বছরের সবচেয়ে বড় এই বিক্রির মওসুম ঈদুল ফিতরে বিকিকিনিতে ভাটা পড়ার কথা বলেছেন ব্যবসায়ীরা।
ঈদ উদযাপন ঘিরে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতীয় ঈদগাহের পাশাপাশি এবার আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠেও বড় পরিসরে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ওই ঈদ জামাতের পর এবার নতুন অনুষঙ্গ হিসাবে আয়োজন করা হয়েছে ঈদ আনন্দ মিছিল ও ঈদ আনন্দমেলা।
নানা সংকট আর মুল্যস্ফীতির ধাক্কায় গত বছর বিকিকিনিতে মন্দা ভাব চলার কথা বলেছিলেন ব্যবসায়ীরা; এবার তার চেয়েও বিক্রি কম বলে ভাষ্য তাদের।
রোজার মধ্যে ছুটির দিনগুলোতে অনেক বিপণিবিতানে ভিড় থাকলেও কোথাও বিক্রেতা কম হওয়ার আফসোস ঝরেছে বিক্রেতাদের কণ্ঠে। অন্যদিকে, দাম বেশি হওয়ার কথা বলেছেন ক্রেতারা।
বাস, ট্রেন ও লঞ্চ- সব বাহনেই এবার স্বস্তিতে বাড়ির পথ ধরেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের সময়ে যে দুর্ভোগ থাকে, সেটা এবার স্মৃতি হয়ে যাওয়ার কথাই বলেছেন কেউ কেউ।
ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেছেন, “সকলকে আনন্দময় ঈদ মোবারক জানাচ্ছি। আশা করি ঈদের সময়, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আপনাদের বাড়িতে যেতে পারবেন এবং আপনাদের পরিবারের সাথে আনন্দের সাথে ঈদ উদযাপন করবেন।”
তিনি দেশের জনগণকে তাদের আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করার, দরিদ্র পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার এবং তাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে উন্নত করা যায় সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানান।
ঈদের নামাজের সময় যেকোনো মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, ‘পরাজিত শক্তির সকল উস্কানির’ মুখে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “সকলের জীবন অর্থপূর্ণ ও আনন্দে ভরে উঠবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সাহায্য করবেন।”
আরও পড়ুন:
শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে, সোমবার ঈদ
দেশের তিন বিভাগ ও চার জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের যে তাপপ্রবাহ বয়ে চলেছে সেটি রোববার থেকে কমে আসতে পারে; তাই ঈদের দিনের আবহাওয়া ‘ভালোই থাকবে’ বলে আশা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বরাবরের মত এবারও রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়। এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে ঈদের পাঁচটি জামাত।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক ইমাম হিসেবে এ জামাতে দায়িত্ব পালন করবেন। ক্বারী হিসেবে থাকবেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
প্রধান ঈদ জামাতের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে হাই কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠ। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
প্রধান ঈদ জামাত ঘিরে নিরাপত্তার বন্দোবস্তুও সারা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা নিরাপত্তার আয়োজন পর্য়বেক্ষণ করে আশ্বস্ত করেছেন।
তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে ঈদগাহের জামাত না হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন পাঁচটি জামাত হবে ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে।
প্রতি বছর দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের আয়োজন হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে। এবার সেখানে হবে ঈদুল ফিতরের ১৯৮তম জামাত। সকাল ১০টায় এ জামাতে ইমামতি করবেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল খায়ের মো. সাইফুল্লাহ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মুকাররমে সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা এবং সকাল ১০টায় যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ জামাত হবে। পঞ্চম জামাত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে।