প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ২১ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চুয়েটেকসু) প্রায় দুই দশক ধরে অচল হয়ে আছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০২ সালে। এরপর ২০০৩ ও ২০০৫ সালে ভোট ছাড়াই ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থীদের দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে আর কোনো নির্বাচন হয়নি, কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ায় চুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আলোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী চুয়েটেকসু নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, সংসদ না থাকায় নিজেদের অধিকার ও দাবিদাওয়া জানানোর কোনো গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম নেই।
অচল সংসদ হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিবছর ১০০ টাকা করে সংসদ ফি নেওয়া হচ্ছে। চার বছরের কোর্সে একজন শিক্ষার্থীকে দিতে হয় ৪০০ টাকা। বর্তমানে চুয়েটে ৪ হাজার ৬২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা জমা হচ্ছে তহবিলে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে তার কোনো জবাবদিহি নেই। পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘২০ বছর ধরে সংসদ নেই, অথচ আমরা ফি দিচ্ছি। এ অর্থের সঠিক হিসাব চাই।’’
চুয়েটেকসুর কার্যালয়ও দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে আছে। প্রধান ফটকের পাশে টিনশেডের ভবনটি এখন ধুলো-মাকড়সার জালে ভরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একসময় ছাত্রলীগের দখলে সেখানে মাদক সেবন ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা, অধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদ চালু জরুরি। তবে তারা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, সংসদকে অবশ্যই দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
চুয়েটের উপাচার্য মাহমুদ আবদুল মতিন ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি থাকলে প্রশাসন সংসদ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেবে। তহবিল প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।