চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ৪ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ পাঁচ দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে আছেন। রোববার (৩১ আগস্ট) ক্যাম্পাসসংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। বর্তমানে তিনি নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং আরেকটি সিটি স্ক্যান করা হয়। এতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ কিছুটা কমেছে বলে দেখা গেছে। তবে তার কনশাস লেভেল এখনো স্বাভাবিকের নিচে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে আপাতত লাইফ সাপোর্টেই রাখা হবে। ইমতিয়াজের বাবা-মা ও পরিবার আইসিইউর সামনে অপেক্ষায় রয়েছেন।
একই ঘটনায় আহত সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন মিয়াকেও লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। তবে তার অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সোমবার বিকেলে লাইফ সাপোর্ট খুলে তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় শনিবার রাতে এক ছাত্রীকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মারধরের অভিযোগ থেকে। রাত সোয়া ১২টা থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষে শিক্ষকসহ অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদেরও ১০–১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে সংঘর্ষের রাতে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করা কয়েকজন ছাত্রী ফেসবুকে লাইভ করছিলেন। স্থানীয় লোকজন তা দেখে অকথ্য গালাগাল দেন এবং ধর্ষণের হুমকি দেন। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁরা নিরাপদে সরে যান। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানিয়েছেন, এখনো তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ‘মোরাল পুলিশিং, ধর্ষণের হুমকি ও সাইবার বুলিং’-এর প্রতিবাদ জানিয়ে ‘নারী অঙ্গন’ সংগঠন বুধবার বিকেলে খোলাচিঠি পাঠ করে। এতে আহতদের সুচিকিৎসা, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর ও উপাচার্য-প্রক্টরের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার পর্যন্তও ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক হয়নি; মাত্র একটি বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।