প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ৯ মার্চ , ২০২৫
মাগুরায় আট বছর শিশুকে ধর্ষণের আলোচিত ঘটনার বিচার এক মাসের মধ্যে শেষ এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ।
রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মুখপাত্র আশরেফা খাতুন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা এ দাবিগুলো ঘোষণা করেন।
দাবিগুলো হলো:
>>মাগুরার শিশুটির মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের মাধ্যমে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা এবং ১ মাসের মধ্যে তার ধর্ষকের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন ওই শিশুর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
>>প্রত্যেক ধর্ষণ মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে দ্রুত মামলার বিচার কার্য সম্পন্ন করে সকল ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
>>নারী ও শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে জবাবদিহি করতে হবে।
>>সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে 'নারী ও শিশু নিপীড়নবিরোধী সেল' গঠন ও সেলের কার্যকরিতা নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
>>ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার বুলিং সংক্রান্ত আইনের সংশোধন করে অপরাধের স্পষ্ট ও যথাযথ সংজ্ঞায়ন করতে হবে। প্রতিটি বিচারের তদন্তকার্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ ও দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় দেশের সমস্ত বিচারককে তৎপত ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় উমামা ফাতেমা আরও বলেন, “আপামর জনগণের উদ্দেশ্যে ছাত্রদের পক্ষ থেকে বলতে চাই, ধর্ষণ ও নিপীড়ন বন্ধে আপনারা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আপনারা অপরাধীদের আইনের হাতে সোপর্দ করুন এবং তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন।”
এর আগে বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ভিসি চত্বর হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে বাণিজ্য অনুষদ হয়ে শাহবাগের দিকে যান। শাহবাগ থেকে আবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে মিছিল শেষ করেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া আট বছরের শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে শনিবার চারজনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। ওই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শিশুটিকে মাগুরা সদর হাসপাতাল, ফরিদুপর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় শুক্রবার রাতে তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে; তার চিৎিসায় গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ডে। পরে উন্নত চিকিৎসার শনিবার শিশুটিকে নেওয়া হয় সিএমএইচে।
এদিকে রোববার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট শিশু ধর্ষণের এই ঘটনার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিয়েছে।
সেইসঙ্গে শিশুটির সব ছবি পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিশুটিকে দেখভালের জন্য সমাজসেবা অফিসার নিয়োগসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
মাগুরার ওই শিশু ধর্ষণ এবং সারা দেশে নারীদের উপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।