বেরোবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার , ২০ জুন , ২০২৫
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলার পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে তিনদিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সমাবেশ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি দল প্রধান ফটক ঘিরে রাখে।
এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাহমুদুল হকের নিঃশর্ত মুক্তিসহ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মিথ্যা মামলার পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার দাবি জানান।
পাশাপাশি তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার আগ পর্যন্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সব শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক মাহমুদুল হকের সহধর্মিণী।
শিক্ষক মাহমুদুল হকের মুক্তি চেয়ে তারা বলেন, এই গ্রেফতার শুধু একজন শিক্ষককে নয়, মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেও বন্দি করার অপচেষ্টা।
সমাবেশে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাহারিয়ার সোহাগ বলেন, আমার শিক্ষক মাহমুদুল হক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সদস্য, ডেইলি স্টারের একজন সিনিয়র সাংবাদিক, ইউএনবি’র সাবেক সাব-এডিটর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। এমন সম্মানিত একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে জেলে ভরে রাখা খুব ন্যক্কারজনক ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ ভাই শহীদ হওয়ার পর তিনিই প্রথম শিক্ষক হিসাবে এই পুলিশি হত্যাকাণ্ডের বিচার চান। এছাড়া পুলিশের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে না দেওয়ার দাবি তোলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো পুলিশই চক্রান্ত করে তাকে গ্রেফতার করেছে। তাকে দ্রুত মুক্তি না দিলে আমরা হাজিরহাট থানা ঘেরাও করতে বাধ্য হব।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মো. ইউসুফ বলেন, মাহমুদুল হক একজন বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ শিক্ষক। তিনি শিক্ষক সমাজ ও সমাজের নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তাকে টার্গেট করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।
মাহমুদুল হকের সহধর্মিণী মাসুবা হাসান মুন বলেন, কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আমার স্বামীকে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। এমনকি কথা বললে তাকে জঘন্যভাবে অপমান করার হুমকি দিয়েছে। পুলিশের এমন আচরণই প্রমাণ করে মিথ্যা মামলায় আটক করার এই ঘটনাটি পুরোটাই সুপরিকল্পিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেই একটি কুচক্রী মহল এটি করেছে। এই কুচক্রী মহলকে শনাক্ত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
উলেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকালে রংপুর মহানগরীর ধাপ এলাকার নিজ বাসা থেকে সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হককে গ্রেফতার করে হাজিরহাট থানা পুলিশ। তাকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, যা তার পরিবার ও সহকর্মীরা ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উলেখ করছেন।