রাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার , ২৬ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনের মাত্র সাত দিন আগে ‘পোষ্য কোটা’ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
ভর্তি কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের অনুপস্থিতিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৬২ সন্তানকে বিশেষ কোটায় ভর্তির অনুমোদন দেয়। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা, শাটডাউন কর্মসূচি ও রাজনৈতিক বিভাজনে নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও বিএনপি–পন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছে। এতে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা কর্মসূচিতে না থাকলেও মঙ্গলবার কেউ ক্লাসে যাননি। অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছেন, ফলে ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা।
পোষ্য কোটার বিরোধিতা করছে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন। বৃহস্পতিবার শাটডাউনের প্রতিবাদে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্রদলও মিটিং করেছে, তবে এখনো মিছিল করেনি। অন্যদিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীরা এই ভর্তিকে তাঁদের সন্তানদের ‘ন্যায্য অধিকার’ বলে দাবি করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “ক্লাস শুরুর পর সন্তান ভর্তির চাপ ছিল। ভর্তি কমিটি বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, “দুই পক্ষের দাবি মেটাতে না পারলে নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে।”
এ ঘটনায় রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম জানান, “শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনেক শিক্ষক নির্বাচনি দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক।”
তিনি বলেন, “আমরা একাধিকবার তফসিল ঘোষণা করেও বিভিন্ন পক্ষের দাবিতে তারিখ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছি।”
নানা জটিলতায় ইতোমধ্যে তিনবার ভোটের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমে ১৫ সেপ্টেম্বর, পরে ২৮ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত থাকলেও এখন তা পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, প্রতিবারই ভিন্ন পক্ষের দাবির কারণে সময় পরিবর্তন করতে হয়েছে।
ছাত্রদল অভিযোগ করেছে, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন জামায়াতপন্থিদের চাপে বারবার ভোট পেছাচ্ছে। সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “পোষ্য কোটা রাজনীতি নয়, ব্যক্তিগত স্বার্থের ইস্যু।” অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, “জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছেন।”
প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনা চলছে। তবে পূজার ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খোলার পর অস্থিতিশীলতা ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।
ফলে ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।