প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ৬ জানুয়ারী , ২০২৫
উন্নত চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন গমনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১০টায় কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন।
যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর তাকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হবে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে গুলশানের বাসায় দেখা করেন।
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, নেত্রী সুস্থ হয়ে দ্রুত দেশে ফিরবেন, এটি তাদের কামনা। খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন।
বিএনপি যেন গণতন্ত্রের পক্ষে, দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, তাদের সেই নির্দেশনা দিয়েছেন খালেদা জিয়া।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সস্ত্রীক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনিও তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
এবারের বিদেশযাত্রায় ৭৯ বছর বয়সী প্রবীণ এই রাজনীতিকের সঙ্গে সাত বছর পর লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেখা হবে। ছেলের বউ জোবাইদা রহমান ও নাতনি জাইমা রহমানও খালেদা জিয়ার অপেক্ষায় আছেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান, চিকিৎসক, বিএনপি নেতারা, ব্যক্তিগত কর্মী ও দুজন গৃহকর্মী থাকবেন।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার অসুস্থতা বাড়ে। এর মধ্যে কয়েকবার তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও পড়েন। তার মৃত্যুর গুজবও ছড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে তার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দুটি মামলায় তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল করেন আদালত।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার লিভার প্রতিস্থাপন খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। লিভার প্রতিস্থাপনের পর পুরো চিকিৎসায় কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। চিকিৎসা শেষ হলে বিএনপির চেয়ারপারসন আবার লন্ডনে যাবেন। সেখান থেকে সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করে তারপর দেশে ফিরতে পারেন।