প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ১০ মে , ২০২৫
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে চলমান ব্লকেড (অবরোধ) কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে তিনি শনিবার (১০ মে) বিকেল তিনটায় শাহবাগে গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি সারা দেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পয়েন্টগুলোতে (স্থান) গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শাহবাগে চলমান অবরোধ কর্মসূচি থেকে শুক্রবার রাত ১১টায় হাসনাত আবদুল্লাহ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিন দফা দাবি হলো :
১. আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করা।
২. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে দলটির বিচারের বিধান যুক্ত করা।
৩. জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করা।
এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, “অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি ২৫ ঘণ্টা হয়েছে। আমরা জানি না এ কর্মসূচির শেষ কোথায়। যতক্ষণ না পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
বক্তব্যে ছাত্র-জনতার কাছে হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চান, “আমাদের তিন দফা যতক্ষণ না পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়, ততক্ষণ কী আমরা এই মাঠ ছাড়ব?’ এ সময় সবাই ‘না’ বলে সমর্থন জানান।
পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সারা ঢাকায় জুলাই-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি যারা আওয়ামী লীগের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন; পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের স্বজন; মোদিবিরোধী আন্দোলনে যারা শিকার হয়েছেন—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই শাহবাগে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে প্রতিটি জুলাই পয়েন্টে গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “এ লড়াই, যারা বাংলাদেশকে বর্গা দিয়ে আমাদের শাসন করেছে তাদের বিরুদ্ধে। যে সিদ্ধান্ত জনগণ ৫ আগস্ট নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠার লড়াই। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের দাবি আদায় হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা শাহবাগ ছাড়ব না।”
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে অবস্থান নেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে সেখান থেকে সমাবেশের ঘোষণা দেন হাসনাত। বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি সেই সমাবেশ স্থগিত করে শাহবাগ অবরোধের ডাক দেন। এরপর হাজারো মানুষ মিছিলসহ শাহবাগে এসে জড়ো হন এবং বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে মূল সড়কে বসে পড়েন। স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।