চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ২২ মে , ২০২৫
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২১ই মে) চাকসু ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।
দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামসুন্নাহার মিতুল বলেন, “নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখা উচিত, যেখানে নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রকৃত ইনসাফ বিদ্যমান থাকবে। কিন্তু, উত্তরাধিকার আইনে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিকতা, যৌনকর্মীদের শ্রমিক স্বীকৃতি প্রদান, ম্যারিটাল রেইপ আইন, ট্রান্সজেন্ডার নারীদের স্বীকৃতির কৌশল অবলম্বন প্রভৃতি প্রস্তাবনা বাঙালি মুসলিমদের মূল্যবোধ ও চিন্তার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।”
নারী সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবিত মডেল আমাদের দেশের ট্রাডিশন, কালচার, ফেইথ, সোশ্যাল ভ্যালু, মোরালিটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কীনা এই প্রশ্নও রাখের তিনি।
অধ্যাপক শামসুন্নাহার বলেন, “পতিতাবৃত্তির স্বীকৃতি আমাদের সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে তুলবে। আপনি আপনার মা বা মেয়ের পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত হওয়া সম্মানজনক মনে না করলে কেন এর স্বীকৃতি চাচ্ছেন? পতিতাদের বড় অংশই অনিচ্ছায় বিক্রি হয়ে এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ আবার অপ্রাপ্তবয়স্ক।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যৌনকর্মীর চেয়ে মাদকাসক্তের সংখ্যা বেশি। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হলে যৌনকর্মীদের পুনর্বাসন কেন সম্ভব নয়?”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আদন নুসরাত বলেন, “নারী সংস্কার কমিশন উত্তরাধিকার আইনে ধর্মীয় আইনের পাশাপাশি আলাদা সিভিল ‘ল’ চাচ্ছেন। একই পরিবারের দুজন সন্তানের মাঝে একজন সিভিল ‘ল’ এবং অন্যজন ইসলামী আইনে সম্পদের ভাগ চাইলে কীভাবে সমাধান করবেন?”
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের সঠিক প্রয়োগই জরুরী মনে করছি বলে তিনি জানান।
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম বলেন, “এই নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা আমাদের নারী হিসেবে লজ্জিত করেছে। আপনারা নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য কমিশন গঠন করেছেন না-কি নারীকে হেয় করার জন্য কমিশন গঠন করেছেন, তা ঠিক আমার বোধগম্য নয়।”
সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী নওশিন নাওয়াল ফাতিমা বলেন, “সংস্কার কমিশনে শব্দের লুকোচুরিতে ট্রান্সউইমেনকেও নারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি মৈত্রী যাত্রার আড়ালে এসব ট্রান্সজেন্ডারকে আমরা সক্রিয় হতে দেখেছি। ট্রান্সজেন্ডারদের স্বীকৃতি নারীর প্রতি চরম অবমাননার শামিল। জুলাইয়ের বাংলাদেশে এমন কিছু বাস্তবায়ন আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব না।”