প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ৬ অক্টোবর , ২০২৫
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গঠিত হয়েছে। রোববার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চতুর্থ দফা আলোচনায় ২৮টি রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে একমত হয়।
তবে গণভোটের সময়, সংবিধান আদেশ জারি এবং ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখনও মতভিন্নতা রয়ে গেছে।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মতি নিশ্চিত করতে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সব দল একমত। এটি সনদ বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ।”
তিনি জানান, আগামী বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) আবার আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হবে।
বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হোক। এতে সংবিধান আদেশ বা সুপ্রিম কোর্টের মতামতের প্রয়োজন হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস। একই দিনে ভোট হলে আলাদা নির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে না।”
বিএনপির মতে, গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বললে সংসদ বাধ্য থাকবে সনদ বাস্তবায়নে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী গণভোটে সম্মত হলেও তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায়।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জনগণ অভ্যস্ত নয়, তাই সহজভাবে আগে গণভোট হলে জাতিও বাঁচবে।” দলটি মনে করে, সংবিধান আদেশের মাধ্যমে গণভোট করলে সেটি শক্তিশালী হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে পারে, তবে তার আগে জুলাই সনদকে একটি সংবিধান আদেশ বা লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কে (এলএফও) আনতে হবে। জাবেদ রাসিন বলেন, “আগামী সংসদ হবে বিশেষ ধরনের—যাদের দায়িত্ব থাকবে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করা।”
তবে বিএনপি, জামায়াতসহ কয়েকটি দলের ভিন্নমত থাকা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জামায়াতের প্রতিনিধি শিশির মনির বলেন, “ভিন্নমত বাইন্ডিং নয়। গণভোটে জনগণের অনুমোদনই হবে চূড়ান্ত।” এর জবাবে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এটি আদালতের রায় নয়, একটি রাজনৈতিক চুক্তি। ভিন্নমত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাতিল করা যাবে না।”
আলোচনার শুরুতে আলী রীয়াজ বলেন, সব বিষয়ে ঐকমত্য না হলে কমিশন একাধিক বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রস্তাব করবে। তিনি আরও জানান, ১৫ অক্টোবরের পর কমিশনের কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা আছে।
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গঠিত জুলাই জাতীয় সনদ দেশের মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনকে রাজনৈতিক ঐকমত্য কমিশন ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হিসেবে দেখছে।