রাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার , ২২ আগস্ট , ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের কার্যক্রম ৩৫ বছর পর শুরু হলেও নানা জটিলতায় অনিশ্চয়তার ঘনঘটা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে রাকসু নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেও তা দুই দফা পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পিএসসিতে নিয়োগ, ছাত্রদলের যৌক্তিক সময়ের দাবি এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে মনোনয়নপত্র বিতরণ, দাখিল ও যাচাইয়ের সময়সূচি একাধিকবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ পুনর্বিন্যাস অনুযায়ী ২৪ থেকে ২৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বিতরণ হবে, ২৭ ও ২৮ আগস্ট দাখিল করা যাবে, যাচাই শেষে ২ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ এবং ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে মনোনয়নপত্র বিতরণ স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কমিশনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চারদিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন। আগামী দিনগুলোতেও তারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, রাকসুর সঙ্গে এ কর্মসূচির সম্পর্ক নেই, এটি ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। তবে কর্মসূচির কারণে মনোনয়নপত্র বিতরণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ছে।
ছাত্র সংগঠনগুলোও নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। শাখা ছাত্রদল প্রশাসনের নিরপেক্ষতা দাবি করে বলছে, তড়িঘড়ি করে নয়, বরং সুষ্ঠুভাবে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচন করতে হবে। অন্যথায় এটি প্রহসন হয়ে দাঁড়াবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাকসুকে ঘিরে দখলদারির সংস্কৃতি চলছে, আবার অনেকে নির্বাচন বানচাল করারও চেষ্টা করছে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ মনে করেন, সিইসি পরিবর্তন হলে নির্বাচনি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়বে।
শিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, বারবার শিডিউল পরিবর্তনে শিক্ষার্থীরা আস্থা হারাচ্ছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমজাদ হোসেনকে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার আকস্মিক রদবদলে ছাত্রনেতারা সংশয় প্রকাশ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এনামুল হক জানিয়েছেন, নতুন সিইসি দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত তারিখেই মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে।
রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, “বিভিন্ন আন্দোলন থাকলেও আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বদলি হলেও নির্ধারিত সময়ে রাকসুর নির্বাচন সম্পন্ন হবে।”
সব মিলিয়ে ৩৫ বছর পর শুরু হওয়া রাকসু নির্বাচনের কার্যক্রম নানা চাপ ও সংকটে পড়েছে। ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলন এবং সিইসি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে কি না, তা এখন শিক্ষার্থী-অধ্যাপক সবার মধ্যেই আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।