প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ২৬ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ পাওয়া, পুনঃনিরীক্ষণে খাতার চেয়ে সার্ভারে বাড়তি নম্বর, মেয়ের পরিবর্তে ছেলের পরীক্ষা দেওয়া এবং গুদাম থেকে সাড়ে ১০ লাখ খাতা ও লুজ শিট গায়েব হয়ে যাওয়ার মতো একাধিক কেলেঙ্কারি এখন তদন্তাধীন।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষা না দিয়েও জিপিএ-৫ পায়। পরে যাচাই করতে গিয়ে আরও ১৫ জনের একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৭ শিক্ষার্থীর ফলাফল বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে এবারের পুনঃনিরীক্ষণে ১৯ শিক্ষার্থীর ৩৪টি খাতায় গরমিল ধরা পড়ে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিশেষজ্ঞ দলের অনুসন্ধানে দেখা যায়, খাতার তুলনায় সার্ভারে ১০ থেকে ২০ নম্বর পর্যন্ত বেশি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে এক মেয়ের স্থলে ছেলের পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খাগড়াছড়ির শহীদ লে. মুশফিক হাইস্কুলের শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান লাভলীর স্থলে পিয়াল আশরাফ শান্ত পরীক্ষা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। তবে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এ অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ‘কম্পিউটার শাখার ভুল’ বলে দাবি করেন।
আরও উদ্বেগের বিষয়, শিক্ষা বোর্ডের গুদাম থেকে প্রায় ৬ লাখ খাতা ও সাড়ে ৪ লাখ লুজ শিট গায়েব হয়ে গেছে। স্টক অনুযায়ী থাকার কথা ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৯টি খাতা, কিন্তু গণনায় পাওয়া যায় মাত্র ১০ লাখ ৪৭ হাজার। অতিরিক্ত খাতাও মিলেছে সাড়ে ৮ লাখের কম। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এসব খাতা কি জালিয়াতিতে ব্যবহৃত হয়েছে?
এর আগে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিজের ছেলের ফল জালিয়াতির অভিযোগে বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্রনাথকে বরখাস্ত করা হয়। মামলা এখনো বিচারাধীন।
বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, “৩০ বছর ধরে গুদামের স্টক মেলানো হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরই কমিটি করে যাচাই করছি। প্রাথমিকভাবে সাড়ে ১০ লাখ খাতা ও লুজ শিট কম পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার সময়ের প্রতিটি ঘটনায় পৃথক কমিটি করা হচ্ছে। সন্তোষজনক প্রতিবেদন না এলে অধিকতর তদন্ত চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে বোর্ডের ভেতরে বা বাইরে—যেই হোক, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”