প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ২০ মার্চ , ২০২৫
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ভারতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর ‘পরিকল্পনা’ আগানোর অভিযোগ এনে জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত দলটিকে নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো আপোষের সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এই পরিকল্পনার বিষয় সামনে আনেন অভ্যুত্থানের নেতাদের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত।
ওই পোস্টে তিনি বলেছেন, “এ পোস্ট দেওয়ার পর আমার কী হবে আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোন ধরনের আপোষ করার সুযোগ নাই।
“জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সকল প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারও যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই তবে আবারও এই আওয়ামীলীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারবো।”
গত ১১ মার্চ দুপুরের পর ক্যান্টনমেন্ট থেকে তিনিসহ আরও দুজন ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে’ পুনর্বাসনের পরিকল্পনা পাওয়ার কথা লেখেন এই তরুণ নেতা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত লেখেন, “‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
“আমিসহ আরও দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ই মার্চ দুপুর আড়াইটায়। আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই।”
কথিত ওই ‘প্রস্তাবের’ বিস্তারিত তুলে ধরে হাসনাত লেখেন, “আমাদেরকে বলা হয়- ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে - তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।
“একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা নাকি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন, গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।”
তিনি লেখেন, “আমাদেরকে আরো বলা হয়- রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।”
‘প্রস্তাবের’ বিরোধিতা করার কথা তুলে ধরে ধরে এই এনসিপি নেতা লিখেছেন, “আমাদেরকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন।
“এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোন ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং 'আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক'।”
কথিত ওই কথোপকথন কোন পথে শেষ হয়েছে, তা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, “আলোচনার এক পর্যায় বলি- যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই,সেই দলকে আপনারা কীভাবে ক্ষমা করে দিবেন!
“অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম এন্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স।তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া 'ইনক্লুসিভ ইলেকশন হবে না’।”
উত্তরে আওয়ামী লীগকে নিয়ে ‘অন্তর্ভূক্তির’ সুযোগ নাকচ করার করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “উত্তরে বলি, ‘আওয়ামীলীগের সাথে কোন ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামীলীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে।আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে’।”
এমন আলোচনার মধ্যে বৈঠক ‘অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়’ বলে উল্লেখ করে জুলাই বিপ্লবের এই নেতা লেখেন, “জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেককিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো এজেন্সি কখনো বা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেয়া হয়েছে।
“আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের উপরেই আস্থা রেখেছি। আপনাদের সাথে নিয়েই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি। আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের উপরেই ভরসা রাখতে চাই।”
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের অবস্থানে অটল থাকার কথা তুলে ধরে পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “আসুন, সকল ‘যদি কিন্তু’ পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
“আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দিবো না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোন সুযোগ নাই বরং আওয়ামীলীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।”
এদিকে, রাতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।