রাবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ১২ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
গাজীপুরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত কাশেমের মৃত্যুর ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খাটিয়া মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে একটি মিছিলের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিলে অংশগ্রহণ করে।
এর আগে, এশারের নামাজ শেষে শহীদ কাশেমের স্মরণে একটি গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জানাজা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড় হয়ে জোহা চত্বরে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা 'জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো'; 'স্বৈরাচারের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে'; 'আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে'; 'আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ, করতে হবে করতে হবে'; ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সমাবেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক মেহেদী সজিব বলেন, '২৪ এর গণবিপ্লবের পরে আওয়ামীলীগ কর্তৃক যে গণহত্যা চালিয়েছে আজকে জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে হাসিনা নিজে হুকুম দিয়ে মানুষ খুন করেছে। এই হাসিনা বাংলাদেশে বারবার গণহত্যা চালিয়েছে, আয়না ঘর তৈরি করেছে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সবচেয়ে বড় অনুঘটক ভূমিকা পালন করেছে।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে, জাতিসংঘের রিপোর্টের পরে আওয়ামীলীগ কোনোভাবেই এই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে না। আওয়ামীলীগকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। বিচারের পুর্বে আওয়ামীলীগ এই দেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই আপনারা যদি কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে না পারেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে যদি ধারণ করতে না পারেন তাহলে এখনো সময় আছে আপনারা আপনাদের জায়গা ছেড়ে দেন। এই বাংলাদেশ কখনো নেতৃত্বশূন্য থাকেনি আর থাকবেওনা।'
সমাবেশে সঞ্চালনা করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এএফএম ফাহিম রেজা।
তিনি বলেন, 'একাত্তরের পরে আমরা যে আওয়ামীলীগ দেখেছি সেই আওয়ামীলীগের ইতিহাস দুর্ভিক্ষ, গুম, খুন ও বাকশালের ইতিহাস। যখন শুনেছি শেখ হাসিনা বজলুল হুদাকে নিজ হাতে জবাই করেছিল বিশ্বাস হয় নাই। কিন্তু এটি বিশ্বাস হয়েছে যখন দেখেছি শাপলা চত্বরে গণহত্যা, যখন দেখেছি বিচারের নামে মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে, যখন দেখেছি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তুলে নিয়ে বছরের পর বছর আয়না ঘরে বন্দি রাখা হয়েছে। বিশ্বাস হয়েছে যখন ২৪ এ গণহত্যা চালিয়েছে দুই হাজার শিক্ষার্থীকে হত্যা করেও মিথ্যাচার করে তখন মনে হয় শেখ হাসিনার দ্বারা মানুষ জবাই করা সম্ভব।'