ঢাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার , ২ আগস্ট , ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে গঠিত ১৮টি কমিটির মধ্যে ১৭টির প্রতিবেদন এখনও জমা পড়েনি। এক বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর গঠিত এসব তদন্ত কমিটির মধ্যে রয়েছে—জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তা শনাক্তে কমিটি, ২০০৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি খতিয়ে দেখা কমিটি, কর্মচারী বৈষম্য, ইমেরিটাস ও সুপারনিউমারি নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি ইত্যাদি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই তদন্তগুলোর অগ্রগতি জানাতে পারেনি। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সী শামসুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, “কমিটিগুলো কাজ করছে, প্রতিবেদন কবে দেবে তা বলতে পারছি না।”
তদন্ত শাখার প্রধান আইয়ুব আলী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অধিকাংশ কমিটির সদস্যরাও প্রতিবেদনের অগ্রগতি জানাতে পারেননি।
ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সেলিম রেজা জানান, তিনি দুটি কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন এবং একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। অন্যটি এখনো প্রক্রিয়াধীন।
অন্যদিকে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, তার কমিটিতে অগ্রগতি নেই, তথ্য সংগ্রহে সাড়া মিলছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালক দপ্তর জানায়, এসব কমিটিতে সম্মানী বাবদ খরচ হয়েছে ১০ লাখ টাকা। প্রয়োজন হলে ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, প্রতিবেদন না আসায় ছাত্রসংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ছাত্রশিবির নেতা এস এম ফরহাদ বলেন, “প্রতিবেদন দিতে না পারাটা প্রশাসনের ব্যর্থতা।”
ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিবাদী অর্গানগুলো এখনো বহাল, তাই ফল পাচ্ছি না।”
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা জাহিদ আহসান বলেন, “প্রতিবেদন ছাড়া তদন্তের অর্থ হয় না। এটা অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা।”
বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর নূজিয়া হাসিন বলেন, “১৮টি তদন্ত হলেও কোনো ফল নেই—এটা বিচার নয়, আমাদের সঙ্গে মুলা ঝুলানো।”
উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ জানান, কিছু প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে পাস হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট সদস্যরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর মধ্যে মাত্র একটি প্রতিবেদনই সিন্ডিকেটে এসেছে।