নরসিংদী প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার , ৭ এপ্রিল , ২০২৫
নরসিংদীতে শারমিন রেজোয়ানা নামে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষক তথা নারী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা অভিযোগ উঠেছে। শারমিন রেজোয়ানা মাধবদীর আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহিলা সম্পাদিকা ও নরসিংদী জেলা শাখার আহ্বায়ক শিউলী রানী মিত্র রোববার (৬ এপ্রিল) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে এ অভিযোগ দিয়েছেন। শিউলী রানী মিত্র শিবপুরের ৮৮নং শেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
লিখিত অভিযোগে শিউলী রানী মিত্র বলেন, “আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন রেজোয়ানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন যাবত নরসিংদীর বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নামে আপত্তিকর কথাবার্তা প্রচার করে আসছেন। যা খুবই লজ্জাজনক।”
তিনি বলেন, “শারমিন রেজোয়ানা একজন নারী শিক্ষক হয়ে যেভাবে অশ্লীল কথাবার্তা বলে ফেসবুকে নিজেকে উপস্থাপন করছেন, এতে আমাদের নারী শিক্ষকদের তথা নারী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করে ফেসবুকে শিক্ষিকা শারমিন রেজোয়ানার অশ্লীল কথাবার্তা ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি গোটা শিক্ষক সমাজ এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ নিয়ে জেলাব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন শিউলী রানী মিত্র।
তিনি নৈতিক স্খলনকৃত সহকারী শিক্ষক শারমিন রেজোয়ানার অশ্লীল কথাবার্তা অবিলম্বে ফেসবুক ও সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শিউলী রানী মিত্র বলেন, “শিক্ষিকা শারমিন রেজোয়ানার ফেসবুক লাইভগুলো শিক্ষক সমাজের জন্য অসম্মানজনক। ওনি সমাজকে নষ্ট করতেছেন। তিনি সমাজের জন্য কলঙ্ক। তার কোনো সমস্যা কিংবা অভিযোগ থাকলে শিক্ষক সমিতির কাছে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে সহযোগিতা চাইতে পারতেন। শিক্ষক সমিতি তার হয়ে পদক্ষেপ নিতো। তিনি তা না করে উলটো কার সাথে কখন কী করেছেন; তা ফেসবুক লাইভে এসে বলে বেড়াচ্ছেন।”
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার রায় বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষিকা শারমিন রেজোয়ানা কয়েক বছর ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, কলেজ শিক্ষক, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জনস্বাস্থ্যের সাবেক প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নানাভাবে চরিত্র হনন করে আসছেন। কয়েকজনের নামে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলাও করেছেন।
প্রথমে কৌশলে ফাঁদে ফেলেন এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন শিক্ষিকা শারমিন রেজোয়ানা। ভুক্তভোগীদের একজন বাধ্য হয়ে তাকে আট লাখ টাকা দিয়ে রফাদফা করার একটি ভিডিও ‘ক্যাম্পাস মিরর’-এর কাছে এসেছে।
এ দিকে গত বছর কলেজের সাবেক এক অধ্যক্ষের সাথে তার আপত্তিকর কথোপকথনের ৩টি কল রেকর্ড ও কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।
সহকারী শিক্ষক শারমিন রেজোয়ানার এহেন কর্মকাণ্ডে গত বছরের ২৪ জুন একজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন।
২৬ জুন তার বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আরেক ভুক্তভোগী। দাবি করা হয়, শারমিন রেজোয়ানা ৮ জন ব্যক্তিকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৮ জুলাই নরসিংদী সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ও অনিতা পালকে ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল ছগীর বলেন, গত বছরের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষিকা শারমিন রেজোয়ানাকে ফোন করলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের অতীত কৃতকর্মের জন্য ভুল স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
নিজেকে ভয়ানক ষড়যন্ত্রের স্বীকার দাবি করে তিনি বলেন, “আমাকে বাঁচতে দিন, আমাকে বাঁচার জন্য সহযোগিতা করুন। আমাকে নিয়ে আপনাদের এই খেলা বন্ধ করুন। ঘটনার মীমাংসায় আসুন।”