কুবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে শনিবার রাতের এ ঘটনায় এক সমন্বয়কসহ তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. রাহিম রোববার প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে সমন্বয়ক এমরান হোসেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাজুর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে মো. রাহিম উল্লেখ করেন, তিন মাস ধরে তিনি একদল শিক্ষার্থীর মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শনিবার রাত ১১টার পর একদল শিক্ষার্থী স্লোগান দিতে দিতে তার কক্ষের সামনে এসে দরজায় কড়া নাড়েন। দরজা খোলার পর তারা কক্ষে ঢুকে বলেন-“১০ মিনিটের মধ্যে রুম খালি কর, নইলে রুম তালা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছু না; আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটাই চূড়ান্ত।”
একপর্যায়ে, নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী তাকে হুমকি দিয়ে বলেন "রুম না ছাড়লে ছাত্রলীগের মতো কইরা পিটামু, তোকে মারা ওয়ান-টু ব্যাপার।"
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে, ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টা ৫০ মিনিটে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু মিয়াজি তাকে ডাইনিং সংলগ্ন সিঁড়ির সামনে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তা করেন। তারা বলেন-“১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রুম না ছাড়লে সব জিনিসপত্র ফেলে দেবো। পারলে তোর কোনো বাপ আছে, নিয়ে আসিস।"
ভুক্তভোগী রাহিম জানান, তিনি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে টিউশন হারিয়েছেন। ফলে তার থাকার বিকল্প কোনো জায়গা নেই। কিন্তু বারবার হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
প্রতিবেদকের হাতে আসা কিছু ভিডিও ফুটেজ ও অডিও রেকর্ড অনুযায়ী, অভিযুক্ত সমন্বয়ক এমরান হোসেনকে বলতে শোনা যায়-"প্রশাসন কিছু না, আমরা যা সিদ্ধান্ত নিবো, তাই মানতে হবে। তোমাকে এখন থেকে ৫ মিনিটের সময় বেঁধে দেওয়া হলো, এর মধ্যে ব্যাগ গুছিয়ে হল থেকে বের হয়ে যাবা।"
অন্যদিকে, হাসিব বলেন-"রুম ছাড়বি, না হলে ছাত্রলীগের মতো করে তোকে পিটামু। তোকে মারা ওয়ান-টু ব্যাপার।"
এছাড়াও, এমরান ও হাসিবের নেতৃত্বে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু মিয়াজিসহ আরও ২০ জন শিক্ষার্থীকে হল ছাড়তে হুমকি দিতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হাসিব বলেন, "হিট অব মোমেন্টে এই কথা বলেছি। ৫ই আগস্টের পর যারা হলে উঠবে, তারা সবাই রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য হলে উঠবে। তাই হল থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আন্দোলনের পর উঠা শিক্ষার্থীদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়া হবে।" প্রায় একই সুরে কথা বলেন, অভিযুক্ত এমরান হোসেন।
এ বিষয়ে ওই হলের প্রভোস্ট মো. হারুন বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে এ রকম আচরণ কাম্য নয়।