চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার , ২০ আগস্ট , ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে অবশেষে চালু হলো পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রনিক কার (ই-কার)। তবে ভাড়া নির্ধারণ ও গাড়ির সংখ্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড়ে ই-কার সেবার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। উদ্বোধনের দিন ১০টি ই-কার যাত্রী পরিবহনে নামানো হয়। এর আগে প্রথম ধাপে ৬টি গাড়ি আনা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ই-কারের সংখ্যা ৪০টিরও বেশি করা হবে। আপাতত দুটি রুটে সেবা দেওয়া হচ্ছে—জিরো পয়েন্ট থেকে বায়োলজিক্যাল ফ্যাকাল্টি পর্যন্ত একটি এবং জিরো পয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী মোড় হয়ে আইন ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ হয়ে ফের জিরো পয়েন্টে পৌঁছানো আরেকটি।
প্রতিটি ই-কারে ড্রাইভারসহ ১৪ জন যাত্রী উঠতে পারবেন। বিদ্যুৎচালিত এই গাড়িগুলোতে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয় না বলে পরিবেশবান্ধব হিসেবেই এগুলোকে দেখা হচ্ছে। গাড়িগুলোর পার্কিং স্টেশন রাখা হয়েছে মেরিন সায়েন্স অনুষদ প্রাঙ্গণে। ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পার্কিং স্থাপন করা হবে।
ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রিকশা ও সিএনজির তুলনায় ভাড়া কিছুটা কম হলেও শিক্ষার্থীদের মতে, দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত ৫ থেকে ২০ টাকা ভাড়া অনেক ক্ষেত্রে বেশি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বিবেচনায় সীমিত সংখ্যক ই-কার পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
চবি শিক্ষার্থী মাহমুদউল্লাহ বলেন, “এতো বড় ক্যাম্পাসে ই-কার চালু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। তবে ভাড়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্বস্তিদায়ক করা দরকার। পাশাপাশি গাড়ির সংখ্যা ও রুট বাড়ানো জরুরি।”
চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন রাত ১০টা পর্যন্ত ই-কার চলাচল করবে। তিনি বলেন, “শুরুতে রিকশা ও সিএনজি চালকদের মধ্যে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও ধীরে ধীরে সবাই অভ্যস্ত হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার কথাই আমরা আগে বিবেচনা করছি।”
উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া আখতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ই-কার চালকদের প্রতি সদয় আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ড্রাইভাররা আমাদের সম্মানিত কর্মী। তাদেরকে পরিবারের সদস্য ভেবে ব্যবহার করতে হবে। আশা করি এই সেবা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমাবে।”
প্রসঙ্গত, ২৩০০ একর আয়তনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর চলতি বছরের মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ই-কার চালু করা হয়। এর আগে ‘চক্রাকার বাস সার্ভিস’ চালু হলেও তা স্থায়ী হয়নি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পূর্ণাঙ্গভাবে ই-কার সেবা চালু হলো।