মানিক হোসেন, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলী বলেন, আমরা পরিবহনের প্রশাসকের পদে যোগ্য লোক পাচ্ছি না। আওয়ামীপন্থী যারা ফ্যাসিস্টের দোসর তারাই রয়েছে ২৬১ জন শিক্ষক। তারা বাদে বাকি যারা আছে তারা বিভিন্ন দপ্তরে সেট হয়ে গেছে।
আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। নানা লোকে নানা অভিযোগ দেবে, নানান কথা বলবে ওসবে কান দেওয়া যাবে না।
নিজের প্রশাষক পদকে বৈধ প্রমাণ করতে তিনি বলেন, এর আগে অনেকেই ২/৩ পদে দায়িত্ব পালন করেছে। আমি যে প্রথমবার এমনটা না।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস মিরর প্রতিবেদককে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ'র আস্থাভাজন হওয়ায় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ নিজের দখলে রেখেছে অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী। আস্থাভাজন এ অধ্যাপক উপ-উপাচার্য হওয়া সত্ত্বেও পরিবহন প্রশাসকের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলে রেখেছে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এসকল কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ সিনিয়র শিক্ষক আরো বলেন, বিভিন্ন সময় ডিন, বিভাগীয় সভাপতি সহ বিভিন্ন দায়িত্বে প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা কাজ করেছেন। তবে আমার জানামতে পরিবহন দপ্তরে এমন ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা এড়াতে সেখানে স্বতন্ত্র ব্যক্তি প্রয়োজন।
জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর পরিবহন প্রশাসক পদ থেকে পদত্যাগ করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের পর ৩০ সেপ্টেম্বর পদটিতে আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলীকে পরিবহন প্রকশাসক হিসেবে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিয়োগ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মো. নসরুল্লাহ। পরবর্তীতে তিনি ২ ডিসেম্বর উপ-উপাচার্য পদেও নিয়োগ পান। তবে এই পদে নিয়োগ হওয়ার পরেও তিনি পরিবহন প্রশাসক পদ ছাড়েননি। উপাচার্যও গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটিতে তাকে পরিবর্তন করেননি। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা সমালোচনা ঝড় বইছে।
পরিবহন দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, উপ-উপাচার্য ও পরিবহন প্রশাসক একই ব্যক্তি হওয়ায় দপ্তরটিতে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ব্যস্ততার কারণে দপ্তরটির সার্বিক কল্যাণে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। ফলে কোনো বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দ্রুত সমাধান বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই দপ্তরে স্বতন্ত্র ব্যক্তি দায়িত্বে থাকলে দীর্ঘসূত্রিতা থেকে রেহাই পাবে দপ্তরটি। ফলে পরিবহন সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যাবে। আমরা চাই, পরিবহন দপ্তরে পৃথক একজন এবং সময় দিতে পারবেন এমন কাউকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হোক।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর। একদিন পরিবহন না চললে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্বতন্ত্র লোক প্রয়োজন। তা না হলে পরিবহনের দুর্ভোগ আরো বাড়বে। উপ-উপাচার্য হয়েও পরিবহন দপ্তর আঁকড়ে ধরে রাখা বেমানান।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান বলেন, পরিবহন ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর দুটি পদ একরকম না। পরিবহন প্রশাসনের একটি অর্গান। আর ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারার প্রশাসনিক প্রধান। সুতরাং এরকম দায়িত্ব পাওয়ার পর পরিবহনের দায়িত্বটা ডেলিগেট করা উচিত ছিল। এটি না ছাড়ার দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দ্বিতীয়ত অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে৷ আমি ইতোপূর্বে ইবিতে এমনকি বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন রেকর্ড দেখিনি। পরিবহনের সাথে অনেক বিষয় সম্পৃক্ত।দুটি জায়গায় দায়িত্ব পালন করা মানে একইরকম কাজ না করা। আমরা তো সুপারম্যান না। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিদ্রুত পদটিতে নতুন কাউকে দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
এদিকে অতি দ্রুত পরিবহন প্রশাসক পদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।