প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ১ এপ্রিল , ২০২৫
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের এক লাখের বেশি নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনৈতিকভাবে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না বলেও তাদের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁয়ে মানবাধিক সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এর কার্যালয়ে ‘গুম ও খুনের’ শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিলনমেলায় এ কথা বলেন তিনি।
গত ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখনও সেখানে রয়েছেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই পালিয়ে অবস্থান নিয়েছেন প্রতিবেশী ভারতে।
সরকারি চাকরির কোটা আন্দোলনে সহিংসতার জেরে গড়ে ওঠা সরকার বিরোধী প্রবল আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে মাহফুজ আলম অন্যতম, যিনি এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
মাহফুজ আলম বলেন, “এখনও হাসিনা ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছেন। ভারত খুবই আনফরচুনেটলি এ হাসিনা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে আশ্রয় দিচ্ছে। আমরা শুনতে পেয়েছি- লাখের কাছাকাছি আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে।”
আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের জনগণের শত্রু হিসাবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “এ ভিন্ন এদের কোনো পরিচয় নেই। এটা কোনো রাজনৈতিক দল না, এটা একটা মাফিয়া গোষ্ঠী ছিল, এর প্রধান ছিলেন শেখ হাসিনা।
“যিনি বাবা হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার নামে দেশের জনগণের উপরে ভারতের সহযোগিতায় এ অত্যাচার নিপীড়ন চাপিয়ে দিয়েছিলেন। কোনোদিন আর আওয়ামী লীগকে এ দেশে রাজনৈতিকভাবে দাঁড়াতে দেব না- এটা আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ‘গুমের বিভিন্ন তথ্য’ তুলে ধরে এ সরকারের আমলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
মাহফুজ আলম বলেন, “গুম ঘরের মতো পুরো বাংলাদেশেই আয়নাঘর ছিল। আমরা আসলে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছি। আমরা আসলেই মুক্ত হয়েছি।”
শেখ হাসিনার শাসনামলে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত ও বিরোধীদের দমনে ‘গুম-খুনের’ মত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়ার দাবিতে গড়ে ওঠে ‘মায়ের ডাক’ নামে এ সংগঠনটি।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘গুমের’ অভিযোগ তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।
‘গুম’ হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা হাজারের উপরে দাবি করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “অধিকাংশ ফ্যামিলি কাউকে খুঁজে পায়নি, গুম কমিশন বলেছে। অনেককে গুম করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে ভারতের কারাগারে ছিলেন। ওরা এখানেই ছিল, এখান থেকে অনেককে ভারতে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।”
মাহফুজ আলম বলেন, “এমন একটা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, যেটা আসলে একটা যুদ্ধাবস্থার মত। এখানে যারাই রাজনৈতিক বিরোধিতা করেছে তাদের সন্ত্রাসী, জঙ্গি, অগ্নি সন্ত্রাসী, আরও অনেক ট্যাগ দিয়ে গুম করা, তাদের স্বজনদের আতঙ্কগ্রস্ত রাখাটাকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছিল। এটা এমন ছিল যে ওরা যেহেতু সন্ত্রাসী, ওদেরকে মারাই যায়।”
শেখ হাসিনা পুরো দেশের ওপরেই জঙ্গিবাদ চাপিয়ে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করে এই উপদেষ্টা বলেন, “আমরা বলছি না যে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বা মিলিটেন্সি, চরমপন্থার কোনো বাস্তবতা নেই। বাস্তবতা আছে হয়ত। কিছু বাস্তবতা ছিল বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় বা বিভিন্ন উগ্রপন্থা ছিল এবং হয়ত আছেও।
“এটাকে মোকাবেলার পথ খুবই স্পেসিফিক এবং তার দায়িত্ব স্পেসিফিক লোকদের। কিন্তু হাসিনা এটা দেশের জনগণের ওপরে চাপিয়ে দিয়েছে, দেশের জনগণকেই সন্ত্রাসী জঙ্গি এবং রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে পোট্রেই করা হয়েছিল।”
হাসিনার পতন ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না মন্তব্য করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের পেছনে যাওয়ার কোনো পথ ছিল না। পথ ছিল একটাই, যে কোনো মূল্যেই হাসিনার পতন। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটানো।”