চবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ২৯ এপ্রিল , ২০২৫
গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ চাকসু নির্বাচন দাবি করেছে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদল।
মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে সংগঠন দুটি পৃথক
কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি তুলে ধরে।
চাকসু
নির্বাচন এবং
চাকসু
গঠনতন্ত্র সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)
শাখা
ছাত্রশিবির সংবাদ
সম্মেলন করে
জুনের
মধ্যে
ছাত্রসংসদ নির্বাচনের আহ্বান
জানায়।
চাকসু
কেন্দ্রের সামনে
দুপুর
আড়াইটা
থেকে
সাড়ে
৪টা
পর্যন্ত চলে
এ
সংবাদ
সম্মেলন।
শাখা
ছাত্রশিবিরের বায়তুলমাল সম্পাদক হাফেজ
মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে
লিখিত
বক্তব্য পাঠ
করেন
শাখা
ছাত্রশিবিরের সভাপতি
মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং
সংস্কার প্রস্তাবনা দিয়ে
গঠনতন্ত্র পাঠ
করেন
শাখা
সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী।
এসময়
ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু)
এর
গঠনতন্ত্রে বেশকিছু সংস্কার প্রস্তাব করেছে।
সংস্কার প্রস্তাব শেষে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে
শাখা
সভাপতি
মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন,
চব্বিশের ৫
আগস্ট
পরবর্তী নতুন
বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪
সালের
২৪
সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সর্বপ্রথম ২৪
দফা
দাবির
মাধ্যমে দ্রুত
সময়ের
মধ্যে
চাকসুর
গঠনতন্ত্র সংস্কার ও
নির্বাচনের দাবী
জানিয়েছিল।
তিনি
বলেন,
আমরা
প্রশাসনকে জুনের
মধ্যে
ছাত্রসংসদ নির্বাচন দেয়ার
আহ্বান
জানিয়েছি। আমরা
চাই
প্রশাসন জুনের
মধ্যেই
চাকসু
নির্বাচন কার্যকর করুক
এবং
৫-১০ ই মে
এর
মধ্যে
চাকসু
রোডম্যাপ ঘোষণা
করুক।
শাখা
সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী
বলেন,
৯০
দশকের
সাথে
বর্তমানের আধুনিক
এ
যুগের
অনেককিছুই যুগোপযোগী নয়।
এজন্যই
আমরা
মনে
করছি
চাকসু
গঠনতন্ত্র সংস্কার প্রয়োজন। যে
কারণে
আমরা
চাকসুর
গঠনতন্ত্রের যুগোপযোগী সংস্কার প্রস্তাব করছি।
ছাত্রদলের স্মারকলিপি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র
সংসদ
(চাকসু)
নির্বাচন দ্রুত
ও
সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের দাবি
জানিয়ে
প্রশাসন বরাবর
স্মারকলিপি জমা
দিয়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)
শাখা
ছাত্রদলের নেতারা।
মঙ্গলবার শাখা
ছাত্রদলের সভাপতি
আলাউদ্দীন মহসিন
ও
সাধারণ
সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল
নোমান
স্বাক্ষরিত এ
স্মারকলিপি জমা
দেয়
তারা।
স্মারকলিপিতে বলা
হয়েছে,
২০২৪
সালের
৫
আগস্ট
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের
প্রকৃত
অধিকার
প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র
প্রতিনিধি নির্বাচনের জোরালো
দাবি
তুলেছে। এরই
প্রেক্ষিতে, নির্বাচন দ্রুত
কার্যকর করা
এখন
সময়ের
অপরিহার্য দাবি
হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ চাকসু
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল
১৯৯০
সালে।
দীর্ঘ
তিন
দশকেরও
অধিক
সময়
ধরে
এ
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে
চাকসু
হচ্ছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল
শিক্ষার্থীর অধিকার
ও
মতপ্রকাশের অবাধ
প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি
আদায়,
নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশ
এবং
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় চাকসুর
বিকল্প
নেই।”
শাখা
ছাত্রদল দ্রুত
ও
সুষ্ঠ
চাকসু
নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসনের কাছে
কিছু
দাবি
পেশ
করছে:
১.
অবিলম্বে চাকসু
নির্বাচনের জন্য
চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়ন
ও
রোডম্যাপ প্রকাশ
করা।
২.
চাকসু
নির্বাচনের পূর্বে
প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার এবং
গৃহীত
সকল
বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ সংশোধন
করা।
প্রশাসনিক সংস্কার পূর্বক
বিতকির্ত পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশন
সহ
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে না
রাখা।
সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের হাতে
দায়িত্ব অর্পণ
করা।
৩.
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে
গণতান্ত্রিক পরিবেশ
বজায়
রাখা
এবং
বিশেষ
গোষ্ঠীর প্রতি
কোনো
ধরনের
পক্ষপাতিত্ব না
করে
সকলের
জন্য
সমান
সুযোগ
নিশ্চিত করা।
৪.
ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
এবং
ভয়ের
সংস্কৃতি দূর
করে
বিগত
সময়ে
ক্যাম্পাসে ঘটে
যাওয়া
সকল
গুপ্ত
হামলার
সুষ্ঠু
তদন্ত
ও
দৃষ্টান্তমূলক বিচার
নিশ্চিত করা।